সেনাবাহিনীকে নিয়ে অপরাজনীতির চেষ্টা এবং তাসনিম খলিলদের নোংরা খেলা

0
140

দেশের বাইরে বসে বিদেশিদের টাকায় বাংলাদেশকে নিয়ে অব্যাহত ষড়যন্ত্র করে যাচ্ছে একটি দেশাদ্রোহী চক্র। অনলাইনে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার চালানোর জন্য কোটি কোটি ডলার খরচ করছে তারা। এমনকি বিদেশিদের কাছে বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করার জন্য খুলেছে আন্ডারগ্রাউন্ড অনলাইন পত্রিকা। অনলাইনের ছদ্মবেশে ‘নেত্র নিউজ’ নামক সেই ‘প্রোপাগান্ডা মেশিনে’ বাংলাদেশের সেনাবাহিনী নিয়েও নিয়মিত উস্কানি দিচ্ছে তারা।

আর বাংলাদেশের সরকারবিরোধী অপপ্রচার চালানো, গুজব সৃষ্টি ও গণমানুষকে উস্কানি দেওয়ার জন্য আমেরিকার গোয়েন্দাদের কাছ থেকে টাকা এনে দিচ্ছে ড. কামাল হোসেনের জামাই ডেভিড বার্গম্যান। সেই টাকা দিয়ে ‘নেত্র নিউজ’ নামক একটি প্রোপাগান্ডা মেশিন খুলেছে দেশাদ্রোহী তাসনিম খলিল। মূল ধারার সাংবাদিকতার তেমন অভিজ্ঞতা না থাকলেও সেই এখন এই তথাকথিত অনলাইনের প্রধান সম্পাদক!

দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের কারণে চাকরিচ্যুত এবং দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে পলাতক সেনাকর্মকর্তাদের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছে এই চক্রটি। ৫ জুন, ২০২১। বাংলাদেশের পুরনো সেনাপ্রধানের অবসরে যাওয়া এবং নতুন সেনাপ্রধান নিয়োগের ব্যাপারেও মনগড়া তথ্য লিখে ছড়ানো হয়েছে নেত্র নিউজের মাধ্যমে।

এর আগে, এই তথাকথিত অনলাইনের সম্পাদক তাসনিম খলিলের সঙ্গে একজোট হয়ে তরুণ সেনাকর্মকর্তাদের মধ্যে বিদ্রোহ ছড়ানোর সর্বাত্মক অপচেষ্টা করেছে চাকরিচ্যুত সেনাকর্মকর্তা শহীদ উদ্দীন খান। ইউটিউবে কয়েকমাস ধরে টানা উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছে সে। কট্টর ভাষা ও অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে সেনানিবাস নিয়ে আপত্তিকর বক্তব্য দিয়েছে। শুধু তাই নয়, সিনিয়র সেনা অফিসারদের বিরুদ্ধে তরুণ সেনা কর্মকর্তাদের বিদ্রোহ করার জন্য অব্যাহতভাবে প্ররোচনা দিতেও দ্বিধা বোধ করেনি। কিন্তু দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর চেইন-অব-কমান্ড এবং দায়িত্বশীলতার কারণে কুচক্রীদের সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

সেনাবাহিনীকে বিতর্কিত করা অপচেষ্টাকারী শহীদ উদ্দীনের পরিচয় সম্পর্কে জেনে রাখুন। নারীঘটিত কেলেংকারী, দুর্নীতি ও পেশাগত কাজে নৈতিক স্খলনের কারণে চাকরিচ্যুত হয় এই কর্মকর্তা। পরবর্তীতে অন্যের জমি জবরদখল করে বিক্রি করে। দোষ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে ৫ বছরের সশ্রম জেল দেন। ৫৫টি অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ব্রিটেন ও দুবাইতে শত শত কোটি টাকা পাচারের দায়ে আরেক আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয় এই শহীদ উদ্দীন। এছাড়াও দেশবিরোধী কাজে যুক্ত থাকা তথা দীর্ঘদিন ধরে জঙ্গিবাদের পৃষ্ঠপোষকতা করার তথ্য প্রমাণ হওয়ায় তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় দেন আদালত। বহুবিধ অপরাধ প্রমাণিত হতে শুরু করলে, গোপনে বিদেশে পালিয়ে যায় সে। তার সে ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত অপরাধী। কর্মজীবনে বিএনপি নেত্রী পাপিয়ার সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকায়, এখন পলাতক জীবনে বিদেশে বসে বিএনপি-জামায়াত সিন্ডিকেটের হয়ে কাজ করছে সে।

সেই ধারাবাহিকতায়, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই-এর অর্থায়নে যেসব বাংলাদেশি পলাতক অপরাধী দেশের সেনাবাহিনীকে নিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করে আসছে, তাদের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধে শহীদ উদ্দীন। উল্লেখ্য যে, রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে, পৃথিবীর বাকি সব দেশের মতো, ঐতিহাসিকভাবেই সবসময় সুরক্ষিত রাখা হয় বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বিষয়গুলো। কিন্তু এই নিরাপত্তা-গোপনীয়তার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে, দীর্ঘদিন ধরে, অনলাইনে উস্কানি দিয়ে সেনাবাহিনীর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টির অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে শহীদ গং।

আর তাদের এই অপচেষ্টাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে তাসনিম খলিলের নেত্র নিউজ। আপনারা ইতোমধ্যে জেনে থাকবেন যে, তথাকথিত অনলাইন ‘নেত্র নিউজ’ পরিচালিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থার অর্থায়নে পরিচালিত বেসরকারি সংস্থা ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি (এনইডি) অনুদানে। এনইডি-এর মাধ্যমে মূলত মার্কিন গোয়েন্দারা কোনো দেশের সরকারকে সরানোর পটভূমি তৈরি করে। সেই সূত্র ধরেই, প্রোপাগান্ডা ছড়িয়ে গণমানুষকে বিভ্রান্ত করার মাধ্যম হিসেবে তাসনিম খলিলরা তৈরি করেছে ‘নেত্র নিউজ’ এর আন্ডারগ্রাউন্ড অনলাইন।

তাসনিম খলিলকে পুরোদমে সঙ্গ দিচ্ছে বাংলাদেশের বিএনপি-জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধীদলীয় জোটের অন্যতম নেতা ড. কামাল হোসেনের জামাতা ডেভিড বার্গম্যান। বাংলাদেশে থাকার সময় সাংবাদিকতার ছদ্মবেশ নিলেও, নৈতিক স্খলনজনিত কারণে সে দুই জায়গায় চাকরি হারায়। এবং বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করায় আদালতে শাস্তির সম্মুখীনও হয়। এরপর বাংলাদেশ ত্যাগ করে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে সাদা চামড়ার এই জাত্যাভিমানি ব্রিটিশ।