ব্যবসার কথা বলে কর্মীর টাকা মেরে দিলো নুর-ফারুক চক্র

0
2438

নারী কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ থেকে মুক্তি মেলার আগেই এবার আঞ্চলিক নেতাদের টাকা মারার অভিযোগ উঠেছে নুরুল হক নুরের ছাত্র-যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের বিরুদ্ধে। গোপালগঞ্জ জেলা ছাত্র অধিকার পরিষদের সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাওহীদ শেখ ফেসবুক লাইভে এসে তার টাকা আত্মসাতের তথ্য-প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন। এসময় তিনি জানান, ছাত্র অধিকার পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক ফারুক হাসান তার কাছ থেকে ব্যবসার কথা বলে ২৫ হাজার টাকা নিয়ে মেরে দিয়েছেন। বারবার ফেরত চাইলেও সেই টাকা আর ফেরত দেননি তিনি। উল্টো ঢাকায় ডেকে নিয়ে হয়রানি করেছেন এবং হুমকি দিয়েছেন। নুরের কাছে অভিযোগ জানিয়েও লাভ হয়নি। কথা বলার সময় প্রমাণ হিসেবে কাগজপত্র দেখিয়েছেন তাওহীন শেখ। সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর-রাশেদ-ফারুকরা মানুষের আবেগ নিয়ে খেলে বলে অভিযোগ করেছেন ছাত্র অধিকার পরিষদের গোপালগঞ্জ জেলার সাংস্কৃতিক সম্পাদক তাওহীদ শেখ। এদের থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার আনুরোধও জানিয়েছেন তিনি।

ফেসবুক লাইভে তাওহীদ বলেন, ‘ব্যবসার কথা বলে গত বছর আমার কাছ থেকে ২৫ হাজার টাকা নেয় ছাত্র অধিকার পরিষদের ফারুক হাসেন, যুব অধিকার পরিষদের সোহরাওয়ার্দী শুভ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম। তারুণ্য ও সংহতি ডটকম নামে একটা অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খোলে তারা। আমাকে সেই প্রতিষ্ঠানের ডেপুটি ডাইরেক্টর হিসেবে নিয়োগ দেয়। প্রতিষ্ঠানের প্যাডে তাদের স্বাক্ষর করা অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার আছে আমার কাছে। তারা গত বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত ব্যবসা করেছে। পরে তাদের মধ্যে টাকা পয়সা নিয়ে দ্বন্দ্ব শুরু হলে, ব্যবসা বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু আমাকে কখনো তারা কোনো টাকা দেয়নি। এমনকি আমি টাকা ফেরত চাইলে তারা একে অন্যের ওপর দোষ চাপায়। এভাবে আমাকে ঘুরাতে থাকে।’

 

টাকার ব্যাপারে তাওহীদ আরো বলেন, ‘এক পর্যায়ে উপায় না পেয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের আরেক যুগ্ম আহ্বায়ক তুহিন ফারাবীর সঙ্গে জানুয়ারি মাসে বিষয়টি শেয়ার করি আমি। তিনি তখন নুরুল হক নুরকে জানিয়ে একটা চিঠি দিতে বলেন। আমি তা দিয়েছি। কিন্তু কোনো উত্তর পাইনি। পরে আবারো ফারুকের সঙ্গে যোগাযোগ করি। তিনি আমাকে টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে ঢাকায় ডেকে নেন। কিন্তু ঢাকায় যাওয়ার পর আমাকে আমাকে টাকা না দিয়ে হয়রানি করে। হুমকি দেয়। বাধ্য হয়ে আমি এখন ফেসবুক লাইভে এসে সব তথ্য প্রমাণ দেখালাম। আমি আমার টাকাটা ফেরত পেতে চাই।’ পরিবারের সামর্থ্য না থাকায় টাকাটা ধার করে জোগাড় করেছিলেন বলেও জানিয়েছেন তাওহীদ শেখ। তিনি বলেন, ‘ফারুক আমার কাছে টাকা চান যখন, তখন আমি পরিবারকে জানাই, কিন্তু পরিবারের পক্ষে এই টাকা দেওয়ার সামর্থ্য ছিল না। এরপর আমি ফারুকের কথায় বিশ্বাস রেখে টাকাটা ধার করে নিয়ে তাকে দেই।’

প্রসঙ্গত, গত বছর নিজেদের সংগঠনের নারী কর্মীকে ধর্ষণের অভিযোগ এসেছিল সাবেক ভিপি নুরুল হক নুরের ছাত্র অধিকার পরিষদের দুই কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। তবে তারা ওই মেয়েটিকে ব্যবহার করেছেন বলে প্রকাশ্যে তথ্য-প্রমাণসহ জানিয়েছেন মেয়েটি। এমনকি নুরের কাছে বিচার দিয়েও হুমকির শিকার হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওই ছাত্র অধিকার পরিষদের নারী কর্মী।

এছাড়াও ফেসবুকে ঘোষণা দিয়ে তারা যেসব অনুদান তোলেন, সেসব টাকার অধিকাংশরই কোনো হিসাব নেই। এমনকি নিজেদের মধ্যে এসব টাকার বণ্টনকে কেন্দ্র করে একাধিকবার গণ্ডগোলও হয়েছে। রাশেদ ও ফারুকের বিরুদ্ধে সংগঠনের কয়েকলাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছিল এর আগেও। এনিয়ে ছাত্র অধিকার পরিষদের মধ্যে মতভেদও সৃষ্টি হয়। সংগঠনের ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নুর নিজের ভাগ ঠিক রাখা ও অন্যদের হাতে রাখার জন্য কখনো অন্যদের এসব অনিয়মের ব্যাপারে কোনো কথা বলেন না।