আন্দোলনে

কোটা আন্দোলনে সরকারের একাত্মতা সত্ত্বেও কেন শিক্ষার্থীরা আবার অবরোধ কর্মসূচী দিচ্ছে?

কোটা ইস্যুতে সারাদেশ উত্তাল। শ্রেণিকক্ষ ছেড়ে রাজপথে শিক্ষার্থীরা। মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হয়ে দুর্ভোগ চরমে। ২০১৮ সালে শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে সরকার কোটা পদ্ধতি বাতিল করেছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবারের রিটে সেই আদেশ অবৈধ ঘোষণা দেয় হাইকোর্ট। কোটা পদ্ধতি পুনর্বহাল হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামেন। তাদের দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ। সেই রায়ের ওপর একমাসের স্থিতাবস্থা দেয় আপিল বিভাগ। অর্থাৎ কোটা বাতিলের ঘোষণা বহাল রইল। এ থেকে স্পষ্ট হয়, শিক্ষার্থীদের দাবি ও সরকারের অবস্থান এক বিন্দুতে মিলেছে।

শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের প্রতি সরকার সহানুভূতিশীল। দাবি আদায়ে শিক্ষার্থীদের পক্ষে সরকারই আদালতে গেছে। ইস্যুটি সুরাহায় যখন আদালত ও সরকার কাজ করছে, হঠাৎ শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি দিয়ে বসে। বৃহস্পতিবার থেকে দেশের সব রাস্তাঘাট অচল করার ব্লকেড কর্মসূচি দিলেন ছাত্র নেতারা। পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের আন্দোলন স্থগিত করে শ্রেণিকক্ষে ফিরে যাবার আহ্বান জানান প্রধান বিচারপতি। তাঁর আহ্বান উপেক্ষা করে কেন শিক্ষার্থীদের এমন উন্মত্ত আচরণ? এই আন্দোলন তবে কার স্বার্থে, কিসের স্বার্থে করা হচ্ছে, সেই প্রশ্ন কিন্তু উঠেছে। জনদুর্ভোগের শিকার সাধারণ মানুষই প্রশ্নগুলো তুলছেন।

কোটা ইস্যুটি যেহেতু আদালতে বিচারাধীন, তাই এখানে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ বা শাসন বিভাগ হস্তক্ষেপ করতে পারেন না। শিক্ষার্থীদের এমন ব্লকেড কর্মসূচি কেবল অশুভ ইঙ্গিতই বহন করে না বরং এটি আদালত অবমাননার শামিলও। কারণ দেশের সর্বোচ্চ আদালতের পরামর্শ ও নির্দেশনা সবাই মানতে বাধ্য।

[কোটা আন্দোলনে সরকারের একাত্মতা সত্ত্বেও কেন শিক্ষার্থীরা আবার অবরোধ কর্মসূচী দিচ্ছে?]

বিশ্লেষকদের মতে, এই আন্দোলনের নেপথ্যে দুরভিসন্ধি ক্রমশ সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। শিক্ষার্থীদের আবেগ পুঁজি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের ফন্দি আঁটছে সরকারবিরোধী পক্ষ। তাদের উদ্দেশ্য কিন্তু কোটা ইস্যু নয়। তারা চায় ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে। শিক্ষার্থীদের সজাগ থাকা উচিৎ। তাদের বোঝা উচিৎ জনগণকে জিম্মি করলে, জনদুর্ভোগ ঘটালে শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সাধারণ মানুষেরও আর সহমর্মিতা থাকবেনা।


আরও পড়ুনঃ