বাংলাদেশ

চার দশকের কাছাকাছি সময় ধরে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। (https://en.wikipedia.org/wiki/Bangladesh_UN_Peacekeeping_Force) বিশ্বে শান্তি প্রতিষ্ঠায় দায়িত্বরত অবস্থায় শহীদ হয়েছেন বাংলাদেশের ১৬৬ জন শান্তিরক্ষী। (https://www.kalbela.com/opinion/sub-editorial/92127) বাংলাদেশের সদস্যদের নিয়ে কোনো আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে তা জাতিসংঘের বা নির্দিষ্ট মিশন সংশ্লিষ্টদের উত্থাপন করার কথা। কিন্তু জাতিসংঘের পক্ষ থেকে প্রশংসা ছাড়া কখনও কোনো ধরণের আপত্তি বা অভিযোগ তোলা হয়নি। তবে আপত্তি জানাচ্ছে বিতর্কিত হলুদ সাংবাদিক জিল্লুর, আরাফাত এবং ভুয়া পোর্টাল খ্যাত নেত্রনিউজের (https://netra.news/2024/a-death-squad-in-blue-helmets/) কুশীলব তাসনিম খলিলরা।

গত ২১ মে জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে বা ডিডব্লিউ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও র‍্যাব ফোর্সেস নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদির একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। (https://www.youtube.com/watch?v=kjgBccv8DP0) প্রতিবেদনে শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের সাথে বাংলাদেশকে মিলিয়ে অদ্ভুত গোঁজামিল যুক্তি দেখানো হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশে এই ধরনের কোনো পরিস্থিতিই তৈরি হয়নি। শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধ পরিস্থিতির সঙ্গে বাংলাদেশের তুলনা কতটা অবান্তর তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তবে এটি সুস্পষ্ট যে, বাংলাদেশ বিরোধী তীব্র বিদ্বেষ থেকে এ ধরণের অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।

প্রকাশিত ভিডিওতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তাকে নির্যাতনের স্বীকারোক্তি দিতে দেখা গেছে। (https://www.dw.com/en/torturers-deployed-as-un-peacekeepers/a-69139732) অথচ তার নাম-পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি। তাদের কাছে যদি আসলেই বিশ্বাসযোগ্য কোনো তথ্য থাকতো তাহলে তারা সুনির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণসহ উক্ত সদস্যের পরিচয় প্রকাশ করতো। কিন্তু তারা তা করেনি কারণ তাদের কাছে গ্রহণযোগ্য কোনো তথ্যপ্রমাণই নেই।

221519_177র‍্যাব কোনো নিয়মিত বাহিনী নয়, বরং সকল নিরাপত্তা বাহিনী থেকে স্বল্প সময়ের জন্য আসা সদস্যদের সমন্বয়ে এটি পরিচালিত হয়। র‍্যাব মূলত সন্ত্রাস, মাদক ও জঙ্গিবাদ নির্মুলে কাজ করে থাকে। সুতরাং প্রকাশিত ভিডিওতে র‍্যাবকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী থেকে বাদ দেওয়ার দাবিও হাস্যকর। (https://www.bhorerkagoj.com/tp-editorial/716406#google_vignette)

স্পষ্টতই ডকুমেন্টারিটি একটি বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে একটি বিশেষ মহলের প্ররোচনায় সম্পাদিত হয়েছে! জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী হিসেবে বাংলাদেশের সৈন্য পাঠানো বন্ধের অপতৎপরতায় নেমেছে এই চক্রটি। (https://www.somoynews.tv/news/2024-05-22/GZV2VNZ2) জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে বাংলাদেশ থেকে সেনা না নেওয়ার ষড়যন্ত্র অনেক আগেই শুরু হয়েছে। এখানে একটা বিষয় পরিষ্কার, যুক্তরাষ্ট্র জিল্লুর রহমানের সিজিএসকে ফান্ডিং করছে তথাকথিত গণতন্ত্র বিকাশের কথা বলে।

(https://www.somoynews.tv/news/2024-05-29/YUF1F96D) আর তাসনিম খলিলের নেত্রনিউজকে ফান্ডিং করছে আইনি সহায়তা ও তথাকথিত মানবাধিকারের কথা বলে। এর আগেও ডয়েচে ভেলের মাধ্যমে এই চক্রটি বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়ে একই রকম একটি ভিত্তিহীন ও গুজব নির্ভর ভিডিওচিত্র প্রকাশ করেছিল। (https://www.dw.com/en/death-squad-inside-bangladeshs-rapid-action-battalion/a-65209010)

96046-la-ned-la-cia-disfrazada-o-el-brazo-de-cambio-de-regimen-en-europa-del-este-china-o-cubaনেত্রনিউজের সম্পাদক ২০০৬ সালে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের পরামর্শদাতা ছিলেন। বাংলাদেশিদের দিয়ে পরিচালিত যেসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের টাকা পায় তাদের মধ্যে অন্যতম নেত্রনিউজ। এই টাকা দেয় দেশটির ন্যাশনাল এনডাউমেন্ট ফর ডেমোক্রেসি বা এনইডি। এই এনইডিকে বলা হয় আধুনিক সিআইএ। (https://www.youtube.com/watch?v=8PZQNdUGcOc)

মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিভিন্ন দেশে তৎপরতা চালায় এনইডি। এজন্য তারা অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন এবং সংস্থাকে ব্যবহার করে। একইভাবে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আর্থিক খাতসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে বিতর্ক উসকে দেওয়ার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। (https://www.sherpurnews.com/ডয়চে-ভেলের-উদ্দেশ্যমূলক-ডকুমেন্টারিতে-নেত্র-নিউজ-সহায়তা-করলো-কেন/124147/124147)

[বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে চক্রান্ত করছে তাসনিম-জিল্লুর চক্র]

বানোয়াট ও ভিত্তিহীন ভিডিওচিত্রটি তৈরিতে সহযোগী হিসেবে ভূমিকা রেখেছে LGBTQ কর্মী তাসনিম খলিল তথা নেত্র নিউজ, যা যুক্তরাষ্ট্রের বিতর্কিত সংস্থা এনইডি-এর অর্থায়নে পরিচালিত। (https://www.banglarkolorob.com/print.php?nssl=32739) এদের সঙ্গে অপপ্রচারে যুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশে মার্কিনপন্থী সাংবাদিক জিল্লুর রহমান (https://www.somoynews.tv/news/2024-06-05/ZV3OI8V8)। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের কথা বলছে, (https://bd.usembassy.gov/bn/policy-history/) অন্যদিকে বাংলাদেশ-বিরোধী কর্মকাণ্ডে অর্থায়ন করছে। (https://www.kalbela.com/national/88221) বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটানো চাইলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত জিল্লুর, আরাফাত, খলিলদের মতো বাংলাদেশ বিরোধীদের এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে পৃষ্ঠপোষকতা বন্ধ করা।

আরও পড়ুন :