ইসরাইল

সারাবিশ্ব যখন গাজায় ইসরায়েলি বর্বরতার বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে, তখন ফিলিস্তিনি নারী-শিশুদের উপর বর্বতার দায়মুক্তি দিয়ে ইসরাইলের প্রতি সমর্থন ব্যক্ত করছে আমেরিকা। শুধু তাই নয়, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে কংগ্রেসের যৌথ সভায় ভাষণ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন সিনেট এবং প্রতিনিধি পরিষদের নেতারা।

শুক্রবার (৩১ মে) এক যৌথ চিঠিতে নেতানিয়াহুকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। তবে তার ভাষণ দেওয়ার কোনও তারিখ নির্ধারণ হয়নি। বিবৃতিতে ৭ অক্টোবর, ২০২৪ এর বর্বরোচিত হামলার জন্য ফিলিস্তিনি জনগণকে দায়ী করে এবং তাদের উপর ইসরাইলের হামলাকে অস্তিত্ব রক্ষার সংগ্রাম হিসেবে আখ্যায়িত করে সমর্থন অব্যহত রাখার ঘোষণা দেন মার্কিন নেতারা।

চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের রিপাবলিকান হাউস স্পিকার মাইক জনসন, ডেমোক্র্যাটিক সিনেটর চাক শুমার, সিনেট রিপাবলিকান নেতা মিচ ম্যাককনেল এবং হাউস ডেমোক্র্যাটিক নেতা হাকিম জেফ্রিস। চিঠিতে কার্যত তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ও বিরোধী দলের মুখপাত্র হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।

ইসরাইলের নির্বিচার বোমা হামলায় কার্যত মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরাইলের চালানো বর্বর এই আগ্রাসনে গাজায় অন্তত ৩৪ হাজার ৭৮৯ এবং পশ্চিম তীরে ৪৯৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহত ফিলিস্তিনিদের বেশিরভাগই নারী এবং শিশু। ইসরাইলের নির্বিচার হামলায় গাজায় ৭৮ হাজার ২০৪ জন এবং পশ্চিম তীরে ৪৯৫০ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজের সংখ্যা ১০ সহস্রাধিক। এছাড়া ২০ লাখেরও বেশি বাসিন্দা তাদের বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন।

এই নৃশংসতার সমর্থন দিয়ে ৭ অক্টোবরের হামলার জন্য ফিলিস্তিনকে দায়ী করে এবং এই হামলাকে ইসরায়েলের অস্তিত্বের লড়াই বলে উল্লেখ করে চিঠিতে বলা হয়, ইসরায়েলের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সংহতি ও স্থায়ী সম্পর্ক তুলে ধরতে এবং গণতন্ত্র রক্ষা, সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে লড়াই ও এই অঞ্চলে ন্যায্য ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য ইসরাইলি সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি শেয়ার করতেই এই আমন্ত্রণ।

এদিকে এই ডাকে সাড়া দিয়ে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র সফরের ঘোষণা দিয়েছেন বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। এটি বাস্তবায়িত হলে তিনিই হবেন প্রথম কোনও বিদেশি নেতা, যিনি মার্কিন যৌথ কংগ্রেসে চারবার ভাষণ দিয়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, মার্কিন জনগণের মতামত জানার বা বোঝার প্রয়োজনীয়তা উপেক্ষা করে রাষ্ট্রীয়ভাবে ইসরায়েলে পক্ষে দাঁড়িয়েছে মার্কিন দুই শীর্ষ দলের নেতারা।

শোষক ও নিপীড়নকারী শাসকদের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন জানানোর ঘটনা আগেও ঘটেছে। মহান মুক্তিযুদ্ধে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মার্কিন জনসাধারণ বাংলাদেশের প্রতি সহানুভূতিশীল ছিল। কিন্তু মার্কিন সরকার মানবতাবিরোধী পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষাবলম্বন করেছিল। ভিয়েতনামের যুদ্ধেও মার্কিন নাগরিকগণ যু্দ্ধের বিরুদ্ধে ছিল, মার্কিন বর্বরতার বিরুদ্ধাচারণ করেছিলো। কিন্তু মার্কিন সরকারের ভুল নীতির কারণে তারা শোচনীয়ভাবে পরাজয় বরণ করে।

এই চিঠিতে মার্কিন জনমতের প্রতিফলন ঘটেছে – এ কথা বলার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের বড় অংশ ফিলিস্তিনিদের প্রতি সহানুভূতিশীল। কিন্তু ডেমোক্রেটিক ও রিপাবলিক্যান দলের শীর্ষ নেতাদের দেওয়া এই বিবৃতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র রাষ্ট্রীয়ভাবে ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছে। বর্বরতার প্রতি এমন ন্যাক্কারজনক সমর্থনে ভুলুন্ঠিত হয়েছে বিশ্ব মানবতা।

আরও পড়ুনঃ