ফিলিস্তিন

স্বাধীন ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী চলমান ছাত্র-আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বাংলাদেশে সর্ববৃহৎ সংহতি সমাবেশ করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ও দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছে ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক দল ও পশ্চিমতীরের শাসকগোষ্ঠী ফাতাহ। আজ বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নিজেদের পেজ থেকে দেওয়া একটি পোস্টে দলটির পক্ষ থেকে এ ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।

ওই পোস্টে বলা হয়, বাংলাদেশের সরকার ও জনগণকে ধন্যবাদ। বিশেষ করে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফিলিস্তিনের প্রতি তার অটল সমর্থন, সংহতি এবং এর পাশে দাঁড়ানোর জন্য। এছাড়া এই সমাবেশের আয়োজন ও অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ ছাত্রলীগের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এর আগে গত সোমবার স্বাধীন ফিলিস্তিন ইস্যুতে বিশ্বব্যাপী চলমান ছাত্র-আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেশজুড়ে পালিত হয় সর্ববৃহৎ সংহতি সমাবেশ। ওই দিন ছাত্রলীগের আয়োজনে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সমাবেশ আয়োজিত হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ঐতিহাসিক মধুর ক্যান্টিন থেকে এ সংহতি সমাবেশের শুরু হয়। এসময় ফিলিস্তিনি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর পদযাত্রা শুরু করেন শিক্ষার্থীরা, যা সন্ত্রাসবিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

এছাড়া জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় , ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া ,চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ও সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্রলীগের সংহতি সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ সমাবেশের ছাত্রলীগের পাশাপাশি যোগ দেন সাধারণ শিক্ষার্থীরাও। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের দাবি জানান। সেইসঙ্গে ইসরায়েলের গণহত্যার নিন্দা জানান।

[পাশে থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছাত্রলীগকে ও জনগণকে ধন্যবাদ জানাল ফিলিস্তিন]

গত অক্টোবরে ইসরায়েলে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠনের হামাসের হামলায় নিরস্ত্র মানুষদের হত্যা ও বেসামরিক বহু মানুষকে জিম্মি করে আনার প্রতিক্রিয়ায় গাজায় সামরিক অভিযান চলছে। এই অভিযানে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ও প্রাণহানির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে বিক্ষোভে নেমেছে। যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি আন্দোলনে যোগ দিচ্ছেন শিক্ষকরাও। নজিরবিহীন এ আন্দোলন ঠেকাতে মারমুখী দেশটির পুলিশ প্রশাসনও। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের নির্যাতন, ধরপাকড়ের পাশাপাশি করা হচ্ছে বহিষ্কারও। এত কিছুর পরও দমানো যাচ্ছে না আন্দোলনকারীদের। ধীরে ধীরে আরও তীব্র হচ্ছে আন্দোলন। এমন প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে ক্রমশ।

সাম্প্রতিক ইতিহাসে এত বড় ছাত্র আন্দোলন দেখেনি যুক্তরাষ্ট্র। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে বোস্টন, নিউইয়র্ক থেকে ওয়াশিংটন; হার্ভার্ড থেকে জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি, ওহাইও থেকে নিউইয়র্ক ইউনিভার্সিটি একের পর বিশ্ববিদ্যালয় শামিল হচ্ছে গাজায় গণহত্যা বন্ধের দাবিতে। পাশাপাশি ইসরায়েল ও গাজা যুদ্ধকে সমর্থন করে, এমন কোম্পানির সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সব ধরনের সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবিও তোলা হচ্ছে। এ ধরনের বিক্ষোভ প্রথম শুরু হয়েছিল কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। এরপর অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়েও বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। একাধিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিক্ষোভ দমনের প্রচেষ্টা চালালেও সফল হয়নি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পুলিশ নির্মম দমনপীড়নের চেষ্টা চালায়।

[পাশে থাকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, ছাত্রলীগকে ও জনগণকে ধন্যবাদ জানাল ফিলিস্তিন]

গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলায় ইসরায়েলে ১ হাজার ২০০ জন নিহত হয়। এর পর থেকে গাজায় বিমান ও স্থল হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। প্রায় সাত মাস ধরে চলা এই হামলায় এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।

আরও পড়ুনঃ