গুজব

বর্তমান সরকারকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে অগণতান্ত্রিক উপায়ে ক্ষমতা দখলের জন্য দেশি-বিদেশী একাধিক মহলের ষড়যন্ত্র নতুন কিছু নয়। আর এসব ষড়যন্ত্রের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে গুজব প্রচার। যা মূল সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়া হয় মানুষের মধ্যে। সুপরিকল্পিত এসব গুজব মাঝে মাঝেই বিভিন্ন স্থানে বড় ধরণের সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। আর এর মাধমেই বাস্তবায়িত হয় দেশ বিরোধী চক্রের জঘণ্য সব পরিকল্পনা। যার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষূণ্ন হচ্ছে।

সম্প্রতি গুজব সৃষ্টিকারীরা বিশেষ কিছু স্পর্শকাতর বিষয়কে বেছে নিয়েছে তাদের অপপ্রচারের জন্য। যার মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন মৌলবাদী মতবাদ, ধর্মীয় উস্কানি এবং সংখ্যালঘু নির্যাতনের মত ভয়াবহ সব বিষয়। এসব বিষয় নিয়ে নিয়মিত বিভিন্ন গুজব তৈরী করে সেগুলো নিয়ে ভিডিও, ব্যানার, অ্যানিমেশন, টিকটক ও রিলস বানাচ্ছে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বিএনপি ও জামায়াতের প্রত্যক্ষ ফান্ডিং এবং মদদে এসব গুজব প্রচার কার্যক্রম।

[মৌলবাদ, ধর্মীয় উসকানি ও সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে গুজবে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া]

বিএনপি-জামায়াতের ফান্ডিং এ কাজ করা এমন একাধিক প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তারা মোটা অংকের টাকা পাচ্ছেন বলেই কোন রকম বাছ বিচার না করেই তারা এসব প্রপাগান্ডা নিয়ে কাজ করছেন। আবার এত বিষয় থাকতে কেন এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়েই কেন গুজব ছড়াচ্ছেন; এমন প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন এই বিষয়গুলি নিয়ে খুব সহজে মানুষের মধ্যে প্রভাব সৃষ্টি করা যায়। যেমন মৌলবাদ শুনলে একটা শ্রেণি হুট করেই ক্ষেপে যায়। অন্যদিকে ধর্মীয় উস্কানিমূলক কথা বার্তায়ও মানুষ ভালো-মন্দ না জেনেই আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে।

[মৌলবাদ, ধর্মীয় উসকানি ও সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে গুজবে সয়লাব সোশ্যাল মিডিয়া]

আবার দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে ছড়ানো গুজব বহির্বিশ্বে ব্যাপক প্রভাব সৃষ্টি করতে সক্ষম। আর তাই বিএনপি-জামায়াত এই বিষয়গুলি নিয়েই এবার উঠে পড়ে লেগেছে। এই স্পর্শকাতর বিষয়গুলি নিয়ে যদি ঠিকভাবে গুজব ছড়ানো যায় তবে সরকার পতনের স্বপ্ন দ্রুত বাস্তবায়ন হবে বলে মনে করেন এই দুটি দলের নেতারা।

আর তাই এসব বিষয় নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচারিত গুজব নিয়ে আমাদের সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। ভালো-মন্দ না জেনে কোনভাবেই এসব দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রের অংশ হওয়া যাবেনা।

আরও পড়ুনঃ