যুক্তরাষ্ট্রে

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে গাজা যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ। আর এ বিক্ষোভ ঠেকাতে ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

গত ৭ই অক্টোবর ইসরায়েলের ভেতরে হামাসের হামলায় ১২০০ ইসরায়েলি নিহত এবং সেটির জের ধরে ইসরায়েলে গাজায় যে হামলা চালাচ্ছে তাতে এখনো পর্যন্ত ৩৪ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে ক্রমশ।

এ ধরনের বিক্ষোভ প্রথম শুরু হয়েছিল কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে। এরপর থেকে অন্যান্য জায়গাও বিক্ষোভের সূত্রপাত হয়। গত সপ্তাহে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট বিক্ষোভকারীদের ক্যাম্পাস থেকে সরিয়ে দেবার জন্য বললে ১০০’র বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে গ্রেফতারের ঘটনা বিক্ষোভকে আরো উসকে দেয়।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে গাজায় যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভে এ পর্যন্ত শত শত শিক্ষার্থীর্কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বোস্টনের এমারসন ইউনিভার্সিটিতে ১০৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া লস অ্যাঞ্জেলস, ক্যালিফোর্নিয়া এবং আটলান্টায় বিভিন্ন ক্যাম্পাস থেকে বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের গ্রেফতার করা হয়েছে। টেক্সাসের অস্টিনে সেখানকার গভর্নর ট্রুপারদের নির্দেশ দিয়েছে বিক্ষোভকারীদের আটক করতে।

[মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের স্বাধীনতা নেই যুক্তরাষ্ট্রে! কি জবাব আছে বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাসের?]

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ২৫টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েল বিরোধী বিক্ষোভ চলছে। সম্প্রতি মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম সিএনএনে একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। যাতে দেখা যায়, ফিলিস্তিনের পক্ষ থেকে নেওয়ায় আটলান্টার এমরি ইউনিভার্সিটির অধ্যক্ষ ক্যারোলিন ফহলিনকে ধস্তাধস্তি করে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ওই অধ্যক্ষ বার বার তাঁর পরিচয় বললেও পুলিশ তাঁর বক্তব্য শোনেনি। এমন অবস্থা যুক্তরাষ্ট্রের তথাকথিত গণতন্ত্র প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।

আরও পড়ুন : US Professor Knocked Down, Handcuffed Amid Pro-Palestine Protest

এদিকে ওহাইওতে যুক্তরাষ্ট্র পুলিশের বিরুদ্ধে এক কৃষ্ণাঙ্গকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এর আগে ২০২০ সালে জর্জ ফ্লয়েডকেও একইভাবে হত্যা করেছিল মার্কিন পুলিশ। সেইসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে গোলাগুলির ঘটনাও খুবই স্বাভাবিক। দেশটিতে প্রায়ই নির্বিচারে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন : “I Can’t Breathe”: Black Man Dies After US Cops Pin Him Down, Kneel On Neck

নিজেদের দেশের এসব সমস্যা থাকার পরেও যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন দেশে মানবাধিকার ও মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। শুধু উদ্বেগই নয় তাঁকে নিষেধাজ্ঞার জুজুও। যা দেখা গেছে বাংলাদেশের নির্বাচনের আগে। গত ছয় মাসের বেশি সময় ধরে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করলেও এ নিয়ে কোনো কিছুই বলেনি যুক্তরাষ্ট্র। অপরদিকে বাংলাদেশে নির্বাচনের আগে মানবাধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার কথা বলে দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞার জুজু দেখিয়েছে তারা।

আরও পড়ুন :