ফিলিস্তিনে

দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ শেষে ৩০ লাখ শহীদের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জনের পর থেকেই ফিলিস্তিনে ইসরাইলের শোষণ ও গণহত্যার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বর্তমান সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও ফিলিস্তিনে ইসরাইলের গণহত্যার বিপক্ষে নিন্দা জানিয়েছেন। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের সমর্থনের ক্ষেত্রে কোন দ্বিধা-দ্বন্দ্ব নেই। কিন্তু ইসরাইলের এই গণহত্যার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘণ’ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র। সম্প্রতি মানবাধিকার বিষয়ক প্রতিবেদনে বাংলাদেশের রাজনীতিবীদদের ইসরাইলের অকারণ হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে সোচ্চার অবস্থানকে ‘এন্টিসিমেটিক’ বা ইহুদী বিরোধী কার্যক্রম হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে কোন ইহুদি না থাকলেও রাজনীতিবীদগণ জনগণের সমর্থন লাভের জন্য ইহুদি বিরোধী বিক্ষোভ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন : বিএনপির জন্য ইসরাইলের আহাজারি!

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে প্রতিবাদ সমাবেশ ও নিন্দার ঝড় বয়ে গেলেও সম্প্রতি ইসরাইলের যুদ্ধ সহায়তায় নতুন বিল পাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব অর্থনৈতিক বেহাল অবস্থা নিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে সতর্কবার্তা জারি করা হলেও বিষয়টিকে পাত্তা না দিয়ে ইসরাইলের যুদ্ধ সহায়তা হিসেবে ২৬ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারের বিল পাশ করেছে মার্কিন কংগ্রেস। দ্রুত এই অর্থ ছাড়ের জন্য সিনেটে দ্রুত বিলটি পাশ করার আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন।

গত বছর অক্টোবরের ৭ তারিখ থেকে এপ্রিলের ১৮ তারিখ পর্যন্ত ইসরাইলের হামলায় ৩৩ হাজার ৮৯৯ জন ফিলিস্তিনি নাগরিক মারা গেছেন। যার ৯০ ভাগই ছিলেন নিরস্ত্র সাধারণ মানুষ। এই নিহতদের মধ্যে ১০ হাজারের বেশি নারী এবং ১২ হাজারের বেশি শিশু রয়েছে। ইসরাইলের হামলায় আহতের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৭৬ হাজার ৬৬৪ জন। জাতিসংঘে বারবার যুদ্ধ বিরতী প্রস্তাব দেয়ার পরও সেখানে ভেটো দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে প্রতিদিন এই সংখ্যা বাড়ছে। বেসামরিক হত্যার ক্ষেত্রে এটিকে বেশ স্পষ্টভাবেই গণহত্যা বলা যায়। ফিলিস্তিনের হাসপাতালকে লক্ষ্য করে একাধিকবার হামলা ও অপারেশন চালিয়েছে ইসরাইল।

আরও পড়ুন : তারেক রহমান ও বিএনপি জোটের ইসরাইল সংযোগ এবং নিশ্চুপ থাকা। নেপথ্যে কি?

[দেশে ফিলিস্তিনে গণহত্যার বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলাকে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘণ’ হিসেবে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র]

প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানবাধিকার প্রতিবেদন তৈরি করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। আন্দোলন থেকে গ্রেফতারকে ‘ফ্রিডম অব স্পিচ’ লঙ্ঘন হিসেবে দেখানো হয় এই প্রতিবেদনে। কিন্তু খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই আন্দোলনের কারণে গ্রেফতারের বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম গার্ডিয়ানে। যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে নিহত হওয়া দেশটির নাগরিকের সংখ্যাও কম নয়। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার বিষয়টিও প্রতি নিয়ত সংবাদ হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে। এবার সেই যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশে ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে রাজনীতিবীদদের আওয়াজকে ‘ইহুদি বিরোধী’ বা ‘এন্টিসেমেটিক’ হিসেবে অভিহীত করলো।

আরও পড়ুন :