যুক্তরাষ্ট্র

আবারও গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে চায় জঙ্গিতন্ত্র

বাংলাদেশে স্বাধীনতা কখনই চায়নি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানকে সহায়তা করতে মার্কিন ৭ম নৌবহর এসেছিল। কিন্তু ভারত ও রাশিয়া সেই চক্রান্ত ভেস্তে দেয়। বাংলাদেশের বিজয় মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিক্সন ও তার দোসর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের কাছে ছিল ব্যক্তিগত পরাজয়। তাই বারবার যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে চেয়েছে। খাদ্যকে অস্ত্র বানিয়ে বাংলাদেশে মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ ঘটিয়ে সেই প্রেক্ষাপটকে ব্যবহার করে ৭৫-এর ভয়াবহ ট্র্যাজেডি ঘটানোর সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন অপশক্তি। জিয়ার মত এক পাপেটকে ক্ষমতায় বসিয়ে নিজেদের লক্ষ্য অর্জন করে মার্কিনিরা। বঙ্গবন্ধুর সেক্যুলার সংবিধান বাতিল করে ধর্মীয় উগ্রবাদনির্ভর রাজনীতির সূচনা করেন পাপেট জিয়া। পলাতক যুদ্ধাপরাধীদের দেশে ফিরিয়ে এনে ধর্মীয় উগ্রবাদ নির্ভর রাজনীতি শুরু করান জিয়া। জঙ্গীবাদের চাষাবাদ করে বিএনপি ও জামায়াত মিলে।

দেশে যদি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা থাকে, পশ্চিমা ঋণদাতাদের মুখাপেক্ষী না হয়ে স্বনির্ভর হয়ে ওঠে, উৎপাদন ও রপ্তানি বৃদ্ধি পায়, দেশ এগিয়ে যায়, তবে পশ্চিমাদের প্রেসক্রিপশন কাজে আসবে না। বাংলাদেশের ওপর ছড়ি ঘোরানো যাবে না- এটাই পশ্চিমাদের মাথাব্যথা। মার্কিন প্রভাবশালী থিংকট্যাংক ব্লুমবার্গ বলছে- বাংলাদেশ ও শেখ হাসিনাকে বাগে আনতে না পারা বাইডেন প্রশাসনের সবচেয়ে বড় ব্যর্থতা। বাংলাদেশে মার্কিনি গণতন্ত্র কায়েম করতে না পারাও পরাজয়। আজ বাংলাদেশ পশ্চিমাদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে স্বনির্ভরতার রোল মডেল। যা সহ্য করতে পারছে না পশ্চিমারা। তারা নানাভাবে বাণিজ্যিক অবরোধ দেওয়ার চেষ্টা করেছে বাংলাদেশের ওপর। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বে সব বাধা জয় করে, সবার সাথে বন্ধুত্ব রেখে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কিন্তু এই ভালো থাকাটাও অনেকের জন্য সমস্যা!

পশ্চিমাদের গাত্রদাহ বাংলাদেশের সাথে কেন রাশিয়া-চীন-ভারত-জাপানসহ বিভিন্ন দেশের এত সুসম্পর্ক? কীভাবে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা ঠেকানো যায়, কীভাবে কোনো ছুতায় বাংলাদেশকে স্যাংশন দেওয়া যায়, কীভাবে বাংলাদেশকে ফাঁদে ফেলে স্বার্থ হাসিল করা যায়- এই চিন্তায় মশগুল পশ্চিমারা। বিএনপি-জামায়াত আমলে জঙ্গিবাদের বাম্পার ফলন হয়েছিল দেশে। এতে বাংলাদেশ অন্তত ৫০ বছর পিছিয়ে গেছে। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে জঙ্গিবাদ কঠোরভাবে দমন করে। যা পছন্দ হয়নি বিশ্ব মোড়লদের। পশ্চিমা মদদপুষ্ট ভাড়াটে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর ভুয়া ও বানোয়াট প্রতিবেদনে ভিত্তি করে র‌্যাবের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। এভাবে চাপ দিয়ে শেখ হাসিনাকে নতি স্বীকার করাতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু শেখ হাসিনাকে দমানো যায়নি।

আরও পড়ুনঃ বাংলাদেশকে নিয়ে বিদেশী মোড়লদের ভয়ঙ্কর পরিকল্পনা: ব্যর্থ বিএনপির সাথে মাঠে নামানো হচ্ছে জামাতকেও

পথ পরিস্কার করে পছন্দের দলকে ক্ষমতায় বসাতে নির্বাচনের আগে নানা অপচেষ্টা চালায় পশ্চিমারা। কিন্তু ব্যর্থ হয়। শেখ হাসিনা পুনঃনির্বাচিত হন। অনেক রাজনৈতিক ছল-চাতুরির পর পশ্চিমারা বাধ্য হয় শেখ হাসিনা সরকারকে স্বীকৃতি দিতে। কিন্তু আক্রোশ কমেনি। সাড়ে ৩ বছরে বঙ্গবন্ধু সরকারকে ফেলতে পারলেও শেখ হাসিনা পশ্চিমাদের গলার কাঁটা হয়ে বসে আছেন ১৫ বছরের বেশি সময় ধরে। কিছুতেই তাকে বাগে আনা যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে সামাজিকভাবে নানা অস্থিরতা তৈরিতে কাজ করছে পশ্চিমা মদদপুষ্ট তাঁবেদাররা।

সিআইএ’র ফ্রন্ট এনইডি ষাটের দশক থেকে বিভিন্ন দেশে সরকার পতনের পটভূমি তৈরিতে কাজ করছে। তারা স্থানীয় গণমাধ্যমকে ফান্ড দেয় গুজব তৈরির মাধ্যমে সমাজে অস্থিরতা তৈরিতে। জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠলে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দেশে ক্যু ঘটায়। এদেশেও এভাবে অনেক পত্রিকা ও সংবাদকর্মী মার্কিনিদের ফান্ডে কাজ করছেন। যারা দেশজুড়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অস্থিরতা তৈরির কাজ করছেন।

লক্ষ্যণীয়, বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন ইস্যু চলছে। আর সব ইস্যুই ঘুরেফিরে ধর্মীয় উন্মাদনা উস্কে দিচ্ছে। এতে ইন্ধন যোগাচ্ছে উগ্রবাদীরা। জামায়াত, হেফাজতসহ যেসব রাজনৈতিক সংগঠন ধর্ম পুঁজি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করে, তারাই এসব ইস্যুকে ধর্মীয় রূপ দিচ্ছে। ক্রমশ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে জঙ্গিবাদ। মাঝে জঙ্গিবাদ চাপা ছিল, এখন আবার নতুন করে ফান্ডিং শুরু হয়েছে বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। উল্লেখ্য, ভয়ঙ্কর ইসলামি জঙ্গি সংগঠন আইএস-এর উত্থান ও অর্থায়নে হাত রয়েছে মার্কিন সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনের। উইকিলিকসের নথিতে সেই প্রমাণ রয়েছে।

ড. ইউনূস ইস্যুতে শেখ হাসিনাকে ব্যক্তিগত শত্রু মনে করেন হিলারি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বন্ধ, বন্ধু ইউনূসকে রেহাই দেয়াসহ অনেক অনৈতিক আব্দার শেখ হাসিনা প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বলে শত্রুতার শুরু। শেখ হাসিনাকে হঠাতে না পারা তার পরাজয়। অনেকদিন ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছেন বাংলাদেশের ওপর স্যাংশন আরোপের। এবার বাংলাদেশের সব অগ্রযাত্রা ব্যাহত করতে আইএস-এর মত ভয়ঙ্কর জঙ্গিবাদ প্রয়োগের চেষ্টা করছে মার্কিনিরা, এমনই তথ্য পাওয়া যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ইস্যুতে বাইডেন প্রশাসনের পদক্ষেপ সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলারের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্থনি ব্লিঙ্কেনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, বাংলাদেশে অবাধ, পূর্ণাঙ্গ এবং মুক্ত গণতন্ত্র বাস্তবায়নে আমাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে। বাংলাদেশ গণতন্ত্রের বিকাশ তাদের প্রধান লক্ষ্য। বাংলাদেশে চীন এবং রাশিয়ার প্রচুর বিনিয়োগ, বাংলাদেশে বড় বড় প্রকল্পে অর্থায়ন করছে, এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সহ্য করতে পারছে না।

মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশকে মার্কিনিরা গণতন্ত্র কায়েমের নামে যেভাবে ধ্বংসস্তুপে পরিণত করেছে, যেভাবে জঙ্গিবাদের মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যের সম্পদশালী দেশগুলোকে নিঃস্ব করে দিয়েছে, ঠিক সেই ফর্মূলায় বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে মরিয়া সাম্রাজ্যবাদী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। গণতন্ত্র কায়েমের নামে বিএনপি-জামায়াতের ঘাড়ে চেপে এদেশে বাংলা বসন্ত ঘটানোর চেষ্টা করছে তারা অনেকদিন ধরে। যেজন্য আইএস, বোকো হারাম, আল-কায়দা, তালেবানদের মত পশ্চিমাদের হাতে গড়ে ওঠা জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীগুলোকে বাংলাদেশে আমদানি করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। মানাবাধিকারের দোহাই দিয়ে বারবার চাপ দিচ্ছে আটককৃত উগ্রবাদী নেতাদের যেন কারামুক্তি দেয়া হয়। তাদের কারামুক্তি দিলে আরেকটা শাপলা চত্বর ঘটানোর চেষ্টা যে করবেনা, তার গ্যারান্টি কী?

[আবারও গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত যুক্তরাষ্ট্র, গণতন্ত্রের নামে বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠা করতে চায় জঙ্গিতন্ত্র]

তাই বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলোর উচিৎ সতর্ক থাকা। র‌্যাব যেভাবে জঙ্গিবাদের মাথা গুড়িয়ে দিয়ে দেশকে উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় ফিরিয়ে এনেছিল, ঠিক সেভাবে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। বহিঃশত্রুরা নানা বেশে এদেশের ওপর কালো থাবা বিস্তার করতে চায়। একবার যদি তারা সফল হয়, এদেশ কখনো মাথা উঁচু করে চলতে পারবে না। তাই প্রতিটি দেশপ্রেমিক নাগরিকেরও দায়িত্ব সাম্রাজ্যবাদী পশ্চিমা মোড়ল ও তাদের চাটুকারদের ভুয়া তত্ত্ব উপেক্ষা করা, বিভিন্ন ইস্যুর ফাঁদে পা দেয়ার আগে যাচাই করা। বাংলাদেশ পরিচালিত হবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে। যতদিন শেখ হাসিনার হাতে দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ।

আরও পড়ুনঃ