ইন্ডিয়া আউট

গেলো সপ্তাহে বেশ ঘটা করেই ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলনে নিজেদের সংহতির কথা জানায় বিএনপি। এর বেশ আগ থেকেই বিএনপি নেতা কর্মী ও অনলাইন এক্টিভিস্টরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ক্যাম্পেইন শুরু করে ‘ইন্ডিয়া আউট’ এবং ‘বয়কট ইন্ডিয়া’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে। কিন্তু বাজারে এই আন্দোলনের কোন প্রভাব নেই। সাধারণ গ্রহকদের অধিকাংশ এই আন্দোলনের কারণ ও লক্ষ্য সম্পর্কেও জানেন না।

রাজধানীর দক্ষিণ বনশ্রী এলাকায় বাজার করেন ফতেউদ্দিন আহমদ। পেশায় তিনি একজন রাইডার। ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলন সম্পর্কে কতটুকু জানেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে এ বিষয়ে আমার কোন ধারণা নেই। আর ভারতীয় পণ্য বয়কট করতে গেলে তো আমাদের রাইডারদের অধিকাংশের রুজি-রুটি বন্ধ হয়ে যাবে।

এই আন্দোলন সম্পর্কে জানলেও বাজারে এর কোন প্রভাব দেখতে পাচ্ছেন না অধিকাংশ মানুষ। নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন গৃহীনি বলেন, এমনিতেই দ্রব্যমূল্য বেশি। ভারতের একবার পেয়াজ সময় মত না পাঠানোয় ৪০০ টাকা পর্যন্ত কেজি হয়ে গিয়েছিলো। সেখানে এ ধরণের আন্দোলন করে আমাদের সাধারণ মানুষকে আরও ভোগান্তিতে ফেলা ছাড়া আর কিছুই হবে না।

এদিকে রামপুরা, আজিমপুর ও ধানমন্ডির কিছু মুদি দোকাদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা বলেন, একেক সময় একেক মত চলে, কখনও কিছুদিন কোক কিনে না, কিছুদিন পেপসি কিনে না। আবার দেশির কিছু কোম্পানির পণ্য নিয়েও মানুষ মাঝে মধ্যে এমন করে। এখনও এমন কিছু দেখি নাই। যা যেমন বিক্রি ছিলো তেমনি আছে। আর এমন হলেও বেশিদিন থাকে না। হয়ত ১ সপ্তাহ। তারপর আবার যা তাই।

ভারতের পণ্যের চাহিদার থেকে যোগান কম বলে জানান বিভিন্ন সুপার শপের প্রকিউরমেন্ট বিভাগ। মীনা বাজারের প্রকিউরমেন্ট ম্যানেজার ওয়াহিদ বলেন, ডলার সংকট ও আরও কিছু কারণে আমাদের কাছে পণ্যই কম আসছে। এ অবস্থায় আসলে চাহিদার থেকে বাজারে পণ্য কম থাকায় আসলেই বিক্রি কমেছে কিনা বোঝা সম্ভব নয়।

[বিএনপির ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলনের প্রভাব নেই বাজারে]

ভারত-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ (আইবিসিসিআই) এর যুগ্মসম্পাদক এবং চাপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের (সিসিসিআই) প্রেসিডেন্ট মো. আব্দুল ওয়াহেদ বলেন, আমরা এখানে ব্যবসা করছি এবং ব্যবসার প্রেক্ষিতে আমরা বলতে পারি, এখন পর্যন্ত ইন্ডিয়া আউটের কোন প্রভাব বাজারে নেই। বরং মার্কেটে ভারতীয় বিভিন্ন পণ্যের যেই চাহিদা আছে তা আমরা পূরণ করতে পারছি না।

[বিএনপির ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলনের প্রভাব নেই বাজারে]

উল্লেখ্য ভারত থেকে বাংলাদেশে যেই পণ্য আমদানি করা হয় সেখানে ভোগ্যপণ্য খুবই সামান্য অধিকাংশই শিল্প কাঁচামাল বা নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য যেমন চাল-ডাল। আইবিসিসিআই এর একাধিক সূত্র থেকে জানায়, ভোগ্যপণ্য কেনার ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত তেমন কোন পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। আর যদি কখনও পরিবর্তন হয়, সেক্ষেত্রে তা মোট আমদানি রফতানির খুবই সামান্য পরিমাণ হবে।

প্রশ্ন থেকে যায়, আন্দোলনে কোন প্রভাব না থাকলেও বিএনপি কেনো ভারত বিরোধী এই আন্দোলনে সংহতি প্রকাশ করলো? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেন, মালদ্বীপের জন্য ‘ইন্ডিয়া আউট’ আন্দোলন নতুন হতে পারে। তবে এই দেশে এমন আন্দোলন ১৯৪৭ সাল থেকেই আমরা দেখে আসছি। এটাকে যারা শুধু রাজনৈতিক আন্দোলন হিসেবে মনে করছেন তারা ভুল করছেন। কেননা এটি আসলে একটি সাম্প্রদায়িকতা ছড়িয়ে দেয়ার আন্দোলন। তিনি বলেন, ভারতের উগ্রপন্থীরাও এই আন্দোলনে উসকানি দেয় অনেক সময়, তবে মূলত দেশের মৌলবাদী শক্তিগুলোর সাম্প্রদায়িক রাজনীতির অস্ত্র এটি। তবে আমি বলবো এটি বেশ পুরতান অস্ত্র, যা এখন আর কাজ করে না।

 

আরও পড়ুনঃ