যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে যেভাবে গুজব ছড়িয়ে বিএনপিকে সাহায্য করছেন জিল্লুর রহমান

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজইনফো ফাইটার হিসেবে নিজেকে পরিচয় দেওয়া জিল্লুর রহমান ‘ দাবি করে ব্যাপক গুজব ছড়াচ্ছেন। বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের ভবিষ্যদ্বাণী করে জিল্লুর তাঁর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নকে প্রশ্নবিদ্ধ করছেন।
zillu 5 zillu 6

তার করা ভিডিওর ক্যাপশনগুলোতে দেখা যায়, জিল্লুর বিভিন্ন দেশের হয়ে কথা বলছেন। দেখে মনে হয়, তিনি দেশগুলোর মুখপাত্র হিসেবে কাজ করছেন। তিনি বাংলাদেশে আরব বসন্তের মতো বাংলা বসন্তও চেয়েছেন যা আসলে সরকার বিরোধীদের চাওয়া।

 

যদিও যে সকল রাষ্ট্রের পক্ষ হয়ে তিনি কথাগুলো বলছেন, সেখান থেকে এ ধরণের অফিসিয়াল কোন মন্তব্য করা হয়নি। কিন্তু তারপরও নিজের মতো করো বিষয়গুলোর ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ করে যাচ্ছেন জিল্লুর রহমান।zillu 3 যা বারবার তার বস্তুনিষ্ঠতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
জিল্লুরের মতো একজন পক্ষপাতদুষ্ট কর্মীকে কীভাবে মার্কিন দূতাবাসে ‘ভুলতথ্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের’ জন্য আয়োজিত সেমিনারে আমন্ত্রণ জানানো হয় তা নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকেই। যেখানে তিনি প্রতিনিয়তন ভুল তথ্য ছড়াচ্ছেন – NDI/IRI Joint Technical Assessment Mission (TAM) – Bangladesh 

জিল্লুরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের মন্তব্যটি স্পষ্টভাবে বাস্তবতার পরিপন্থী। কারণ বিশ্বের প্রায় সব দেশই নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করেছে। কিন্তু কোনো দেশ আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অফিসিয়াল রিপোর্টে কোনো অন্তর্বর্তী নির্বাচনের দাবি করেনি।

 

বিএনপি এবং জামায়াতের কর্মীরা জিল্লুরের এই ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে ব্যাপকভাবে শেয়ারzillu 8 করেছেন। কারণ তারাও বুঝাতে চায় যে, বিদেশিরা তাদের সহিংসতা এবং অগ্নিসংযোগের হামলাকে সমর্থন করে সরকারের পতন চাইছে।

রাজনৈতিক পক্ষাপাতিত্ব করার ঘটনা জিল্লুরের জন্য এবারই প্রথম নয়। তিনি ডিজইনফো ফাইটার পরিচয়ে গত এক বছর ধরে ইউটিউব ও ফেসবুকে গুজব ছড়াচ্ছেন।

গত ১১ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মার্কিন দূতাবাস জিল্লুরসহ বেশ কয়েকজনের ছবিzillu 1 সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে পোস্ট করে যা জিল্লুর নিজেও তার সকল প্লাটফর্মে শেয়ার করে বোঝাতে চেষ্টা করেন তিনি রাষ্ট্রূদত পিটার হাসের সমর্থক। ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের সেই পোস্টে তাকে ‘গুজববিরোধী যোদ্ধা’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। এর কয়েক সপ্তাহ পরেই জিল্লুর ইউটিউব চ্যানেলে একটি পুরোনো ভিডিও শেয়ার করে। যেখানে হাসের পক্ষে তিন বক্তাকে বক্তব্য দিতে দেখা যায়।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সেই পুরানো ভিডিওটি পুনরায় সামনে এনে জিল্লুর গণমাধ্যমে মার্কিনzillu 12 নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে হাসের বক্তব্যটিকে ন্যায্যতা প্রমাণের চেষ্টা করেন। ইউটিউবে পোস্ট করা তার বিভিন্ন ভিডিওর ক্যাপশনে লেখা হয়, ইউএস শীঘ্রই পদক্ষেপ নেবে, “মার্কিন পদক্ষেপ নেবে, কী হবে”? “যুক্তরাষ্ট্র কী করতে পারে”?, “যুক্তরাষ্ট্রের বিএনপি ও সুশীল সমাজের সদস্যদের মধ্যে বৈঠক, যুক্তরাষ্ট্র কী করবে?

[যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে যেভাবে গুজব ছড়িয়ে বিএনপিকে সাহায্য করছেন জিল্লুর রহমান]

zulka 13জিল্লুর তার ভেরিফায়েড চ্যানেল থেকে এই ধরনের মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর বিষয়টি থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যাচ্ছে যে, গুজবের বিরুদ্ধে লড়াই নামে মার্কিন অর্থায়ন একতরফাভাবে পক্ষপাতমূলক প্রচারকদের শক্তিশালী করছেন তিনি।

আরও পড়ুনঃ