বিদ্রোহ

দেশের ইতিহাসে অন্যতম আলোচিত ঘটনা বিডিআর বিদ্রোহ। এ ঘটনায় এখনও চলছে বিচার। নৃশংস এই ঘটনাকে রাজনৈতিক মোড়ক দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিএনপি-জামায়াত। বরাবরই তাদের নিশানায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন তথ্যে উঠে এসেছে, এই বিদ্রোহে অভিযুক্তদের পাশে ও পক্ষে যারা দাঁড়িয়েছেন তারা সবাই বিএনপি কিংবা জামায়াতের সরাসরি নেতাকর্মী।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বিডিআর বিদ্রোহে অভিযুক্তদের পক্ষে দাঁড়িয়ে তারা বিদ্রোহীদের পক্ষে ছিলেন এটাই প্রমাণ দিয়েছেন।

ইতিহাস বলছে, বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়া প্রথম দিকে বিডিআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। পরবর্তীতে তারা তাদের সুর পাল্টায়। এ ছাড়াও বিএনপি নেতা সাকা চৌধুরী শহীদ আর্মি অফিসারদের মৃত্যু প্রসঙ্গে বিদ্রূপ করে বলেছিলেন ‘কিছু প্রাণী মারা গেছে’।

এছাড়া ডিএডি তৌহিদসহ কিলিং মিশনের পক্ষে আইনি লড়াই করেছে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের পিপি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান। যিনি হাওয়া ভবনের বিশেষ সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত। তৎকালীন সময়ে তার তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা বিভিন্ন মামলা থেকে অব্যাহতি পায়। এ ছাড়াও সাবেক ছাত্রশিবির নেতা অ্যাডভোকেট ফারুক জামায়াতের নেতাকর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদান কমিটির অন্যতম একজন। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে যুক্তরাজ্য থেকে জামায়াতি ব্যারিস্টার আমদানির সমন্বয়কারী ছিলেন তিনি।

এছাড়াও দেখা যায়, আসামীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী আইনজীবীদের মধ্যে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিকুল হক, খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া ও মো. জয়নুল আবেদীন প্রমুখ বিএনপি’র নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের নেতা।

আরও পড়ুন : বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্যে কারা? সেনা অফিসার হত্যার মিশনে কার লাভ কার ক্ষতি? তথ্য, সূত্র সহ প্রমাণ দেখুন

যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর অন্যতম কৌঁসুলি এস এম শাহজাহান ও ফারুক আহমেদ সাবেক শিবির ও জামায়াত শিবিরের গ্রেপ্তারদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী আইনজীবী।

অন্যান্যদের মধ্যে টি এম আকবর, জামাল, জহিরুল আমিন, শফিকুল ইসলাম, সুলতানা আক্তার রুবি, শেখ রাশেদুল হক, মাজেদুর রহমান মামুন, এস এম রেফাজ উদ্দিন, আব্দুর রশিদ, খন্দকার জামাল, রমজান খান, আব্দুল মান্নান, হুমায়ুন কবির, এমদাদুল হক লাল, সুফিয়া আক্তার হেলেন, আমিনুর রহমান– এরা সকলেই বিএনপিপন্থী বার এসোসিয়েশনের নেতা বা জোট সরকার আমলের পিপি বা বিএনপির আইনজীবী প্যানেলের সক্রিয় নেতা।

প্রশ্ন উঠেছে, দলীয় সিদ্ধান্ত ছাড়া বিডিআর হত্যাকাণ্ডের মত স্পর্শকাতর ইস্যুতে অভিযুক্ত খুনিদের পক্ষাবলম্বন করা কি স্বাভাবিক কোনো বিষয়? রাজনৈতিক স্বার্থ না থাকলে কি কেউ এমন হঠকারী পদক্ষেপ নিতে পারে?

আরও পড়ুন : বিডিআর বিদ্রোহের নেপথ্যে কারা?

পিলখানা-হত্যাকাণ্ড5জানা যায়, ডিএডি তৌহিদ, বিদ্রোহী সিপাহী মাঈন, সুবেদার মেজর গোফরান মল্লিকসহ বিদ্রোহ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রায় সবাই বিএনপি আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত। এ ছাড়াও টাঙ্গাইল থেকে গ্রেফতার হওয়া ২২ জন বিডিআর সদস্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলার আসামি বিএনপির উপমন্ত্রী সালাম পিন্টুর সুপারিশে চাকরি পেয়েছিল।

[বিডিআর বিদ্রোহে অভিযুক্তদের পক্ষে কারা?]

BDRবিডিআর হত্যাকাণ্ডের দুদিন পর খালেদা জিয়া বলেন, ‘সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা ভুল ছিল।’ এ বক্তব্যেই বোঝা যায় তিনি কী চেয়েছিলেন। কতজনকে হত্যা করা হয়েছে বা প্রকৃত চিত্র কী ছিল এটা জানার কোনো উপায় ছিল না। এ কারণেই কয়েকটি মিডিয়া বা সাদেক খানরা বিডিআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েও পরবর্তীতে সুর পরিবর্তন করেন।

আরও পড়ুন :