যুক্তরাষ্ট্র

প্রতিদিনই ইসরায়েলের বোমা হামলার প্রাণ হারাচ্ছে অবরুদ্ধ ভূখণ্ড ইসরায়েলের বাসিন্দরা। এমন পরিস্থিতিতে জাতিসংঘে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র।

আরও পড়ুন : US vetoes Arab-backed UN resolution demanding ceasefire in Gaza

0185b740eb0c78f5c1efac5b14b67a73-6530c01d5efc5মানবাধিকার রক্ষার নামে ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করে যাচ্ছে আমেরিকার জো বাইডেন প্রশাসন। যার মাধ্যমে তারা ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি গণহত্যাকে অনুমোদন দিচ্ছে। গত ২০ ফেব্রুয়ারি তৃতীয়বারের মতো জাতিসংঘে গাজার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ভেটো দেয় আমেরিকা। আর এরমাধ্যমে বাইডেন প্রশাসনের দুমুখো নীতি আরও প্রকাশ্যে এসেছে। দেশটি ফিলিস্তিনিদের মানবাধিকারকে তোয়াক্কা না করলেও বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকার নিয়ে সোচ্চার।

IUSAগত বছর অনেক পশ্চিমা দেশই গাজায় যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে সমর্থন দিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র বলছে, এ প্রস্তাব ছিল তড়িৎ ও ভারসাম্যহীন। বিশ্লেষকরা বলছেন, এর মাধ্যমে ইসরায়েলের গণহত্যাকে অনুমোদন দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছরও জাতিসংঘে গাজার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ভেটো দিল আমেরিকা। তবে এবারের যুক্তি ছিল আরও হাস্যকর। আমেরিকার বলছে, যুদ্ধবিরতি আরও সংঘাত বাড়িয়ে তুলতে পারে। এদিকে জাতিসংঘের অন্যান্য সদস্য রাষ্ট্র এই প্রস্তাবকে হত্যাকাণ্ড ও গণহত্যা বন্ধ করতে ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ বলে মনে করেছে।

আরও পড়ুন : High court rejects legal challenge over UK arms sales to Israel

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে অবিলম্বে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়ে রুল জারি না করার জন্য হেগের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
এদিকে গাজা যুদ্ধের শুরু থেকেই ইসরায়েলের কাছে অস্ত্র বিক্রি করছে যুক্তরাষ্ট্র। যুদ্ধ শুরুর দিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুকেও ইসরায়েলে এসে আলিঙ্গন করেছেন বাইডেন।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ গাজায় নারী-শিশুসহসহ নিরীহ বেসামরিক হত্যার নিন্দায় অটল রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণহত্যার নিন্দা জানিয়ে আগ্রাসন ও যুদ্ধ বন্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে বিশ্বকে অবিচলভাবে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘের প্রস্তাবিত দুটি রাষ্ট্রের তত্ত্ব বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের প্রতি একটি পররাষ্ট্র নীতি অনুসরণ করেছে যা্র মাধ্যমে শেখ হাসিনার বিরোধিতাকারী শক্তিগুলোর প্রতি সরাসরি সমর্থন দেখাচ্ছে।

আরও পড়ুন : Arms maker BAE Systems makes record profit amid Ukraine and Israel-Gaza wars

বাংলাদেশ জনগণের রায় নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো ক্ষমতায় এসেছেন শেখ হাসিনা। তাঁকে স্বাগত জানিয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিরোধীদের সাথে নিজেকে এতটাই সংযুক্ত করেছে যে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে, বাংলাদেশে বাইডেনের গণতন্ত্র নামের ক্রুসেড ব্যর্থ হয়েছে।

নির্বাচনের আগে বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে ২০ বারের বেশি সাক্ষাৎ করতে যান মার্কিন রাষ্ট্রদূত। তখন বিরোধীরা বলতে থাকে, বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞাসহ কড়াকড়ি আরোপ করবে যুক্তরাষ্ট্র। যা নিয়ে শঙ্কিত হয় সাধারণ জনগণ ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো।

আরও পড়ুন : Europe ‘aiding and assisting’ Israel’s war in Gaza with key weapons

মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের নিষেধাজ্ঞার হুমকি ব্যবহার করে বিরোধী দলের নেতারা সাংবাদিকদেরও তাদের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন তৈরিতে বাধা দেয়। এরমধ্যে এক নেতার মানিলন্ডারিংয়ের ঘটনাও রয়েছে।

[মানবাধিকার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মায়াকান্না – একদিকে অস্ত্র ব্যবসা, আরেকদিকে মানবাধিকার ব্যবসা]

নির্বাচনের পরে বিএনপির জ্বালাও পোড়াওকে আমলে নেয়নি যুক্তরাষ্ট্র। বরং দেশটি নির্বাচনে পর্যবেক্ষক না পাঠিয়ে ভোটকে পক্ষপাতদুষ্ট হিসেবে আখ্যা দিয়েছে।

এখন পর্যবেক্ষকরা বলছেন যে বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও মানবাধিকার নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে চাপ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে খুব বেশি কথা না বলতে দেশটিকে বাধ্য করার এজেন্ডা। যা বাইডেনের দুমুখো নীতির একটি স্পষ্ট উদাহরণ।

আরও পড়ুন :