কারাগার

কারাগার থেকে বেরিয়ে বিএনপি নেতাদের ডিগবাজি, কর্মীদের দাবি বিক্রি হয়ে গেছেন নেতারা

গত ২ সপ্তাহে বিএনপির অনেক নেতা কারামুক্ত হয়েছেন। যাদের মধ্যে কেন্দ্রীয় নেতা থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ের অনেক বড় নেতাও রয়েছেন। পুলিশ হত্যায় সংশ্লিষ্টতা, প্রধান বিচারপতির বাড়িতে হামলা, অগ্নিসন্ত্রাস, বোমাবাজি, নাশকতাসহ বিভিন্ন মামলায় আটক ছিলেন তারা। হঠাৎ যেন মামলাজট শিথিল হয়ে জামিন পেয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নেতারা। অবাক দলের নেতারাই। মুক্ত থাকা অনেক নেতাই এ নিয়ে সন্দেহ করছেন। কারো কারো দাবি, নেতারা সরকারের সাথে গোপন চুক্তিতে গেছেন বা আপোস করেছেন। কিংবা অর্থের লোভে সরকারের কাছে বিএনপি নেতারা বিক্রি হয়েছেন। এসব গুঞ্জন বাতাসে ভাসছে গত কয়েকদিন ধরে।

শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মির্জা ফখরুল, আমীর খসরুসহ অনেক নেতা জেল থেকে বেরিছেন কয়েকদিনের ব্যবধানে। মির্জা আব্বাসও দুয়েকদিনের মধ্যে মুক্তি পাবেন- শোনা যাচ্ছে। আন্দোলন করে দলের যে নেতারা আপোসহীন মনোভাব দেখালেন, হঠাৎ তারা কেন জেল থেকে বেরোতে উতলা হলেন আপোস করে? তারা জেলে থাকায় সরকারের ওপর যখন চাপ তৈরি হচ্ছিল, তখন তাদের কারামুক্তি উল্টো সরকারকে সুবিধা করে দিল- এমন মত দলের নেতা-কর্মীদের। তাই সন্দেহ, বিএনপি নেতারা ঠিক কোনো গোপন চুক্তিতে সরকারের সাথে হাত মিলিয়েছেন? নইলে আর কিছুদিন কি তারা জেলে থাকতে পারতেন না?

বিএনপির সাবেক এক ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, আওয়ামী লীগ যখন বিরোধীদলে ছিল, তখন ওবায়দুল কাদেরসহ অনেক নেতা বছরের পর বছর জেল খেটেছেন কিন্তু আপোস করেননি। নানা নির্যাতন এবং প্রলোভনেও তাদের টলানো যায়নি। বরং এই অনমনীয়তার কারণে উল্টো চাপে পড়ে বাধ্য হয়ে তাদের মুক্তি দেয় সরকার। আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় যাবার ভিত গড়ে দেয় নেতাদের এই অনমনীয়তা। ফলে আন্দোলনের যৌক্তিকতা ও গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয় জনগণের কাছে। জনগণও রাজপথে নেমেছিল আওয়ামী লীগের সাথে। অথচ বিএনপি মুখে যতই বলুক জনগণ তাদের পাশে আছে, আসলে পুরোটাই ভাঁওতাবাজি। ১৭ কোটি মানুষের মধ্যে মাত্র ৫ লাখ মানুষ ঢাকায় নামলে একদিনেই রাজধানী অচল হয়ে যেত। কিন্তু বিএনপির ডাকে সাধারণ মানুষ দূরে থাক, দলের কর্মীরাই রাস্তায় নামে না। এটাই বাস্তবতা। মানুষ বোঝে, বিএনপির আন্দোলন জনগণের কল্যাণে নয়।

হঠাৎ কেন এই সন্দেহ? বিএনপি নেতা আমীর খসরু, চট্টগ্রামের পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে যার হাজার হাজার কোটি টাকার ব্যবসা; বেশিরভাগ পণ্য আমদানি করেন ভারত থেকে। রমজান আসন্ন, এসময় তিনি জেলে থাকা মানে ব্যবসায় লস। এদিকে পিনাকী ভট্টাচার্যসহ বিএনপির ইউটিউবাররা ভারতীয় পণ্য বর্জনের ডাক দিয়েছে। ফলে আমীর খসরু, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, গয়েশ্বর চন্দ্র, নিতাই রায়সহ বিএনপির যে নেতাদের ভারতের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক, তারা এই ভারত হঠাও আন্দোলন থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন।

২০০১ থেকে ২০০৬ঃ খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার অপরাধ দমনের ছদ্মবেশে র‍্যাবকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে কাজ করতে বাধ্য করেছিল বিএনপি-জামায়াত সরকার

অন্যদিকে রমজানে সময় ব্যবসা করা জরুরি। তাই সরকারের সাথে আপোস করে ফেলেছেন খসরুসহ অন্যরা- এমনটাই ভাবছেন দলের অনেক নেতা। কারণ খসরু হঠাৎ উল্টো সুরে গাইছেন জেল থেকে বেরিয়ে। তিনি বলেছেন, আওয়ামী লীগের সাথে আলোচনায় রাজি বিএনপি! অথচ কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, সরকারের সাথে আলাপ আলোচনার কোনো সিদ্ধান্তই হয়নি। খসরু এই বক্তব্য দিলেন কীসের ভিত্তিতে? আলাপ-আলোচনায় না গিয়ে নির্বাচন বয়কট করা বিএনপিকে কেন সরকারের কাছে নতজানু করা হচ্ছে- এই প্রশ্ন দলের নেতাদের।

[ কারাগার থেকে বেরিয়ে বিএনপি নেতাদের ডিগবাজি, কর্মীদের দাবি বিক্রি হয়ে গেছেন নেতারা ]

তবে কি বিএনপি তারেককে মাইনাসের পথে হাঁটছে? খসরুর প্রস্তাব কি সেই পরিকল্পনার অংশ? গতকাল বিএনপির জোটের নেতা জোনায়েদ সাকি বলেছেন- বিএনপির ভেতর সরকারের এজেন্ট রয়েছে। এদিকে আব্দুল মঈন খানের কূটনৈতিক পাড়ায় দৌড়ঝাঁপ নিয়ে পত্রিকায় খবর এসেছে। মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সাথে মঈন খানের বৈঠক হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এখন শেখ হাসিনা সরকারের সাথে পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নির্বাচনের পর থেকে, যে দেশের রাষ্ট্রদূত বিএনপিকে গাছের মগডালে তুলে মই কেড়ে নিয়েছে বলে বিএনপি নেতাদের দাবি, সেই পিটার হাস বিএনপিকে নতুন কোন বুদ্ধি দিচ্ছেন?

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বন্ধু রাষ্ট্রগুলো এখন সরকারের সাথে নতুনভাবে কাজ করতে অঙ্গীকারবদ্ধ। ২০২৪ সালের নির্বাচনকে সকল দেশ ইতিমধ্যে স্বীকৃতি দিয়েছে। তাই হয়ত এবার বিদেশিরা বিএনপি নেতাদের পরামর্শ দিচ্ছেন পলাতক তারেক রহমানকে মাইনাস করে বিএনপিকে পুনর্গঠন করতে। হয়ত তখন বিদেশিদের সমর্থন পেতে পারে আন্তর্জাতিকভাবে সন্ত্রাসী সংগঠনের খেতাবপ্রাপ্ত বিএনপি।

 

আরও পড়ুনঃ