ইউটিউব

আওয়ামী লীগবিরোধী গুজবের কেন্দ্র ইউটিউব, কোন পদক্ষেপ নিচ্ছে না স্বাধীন ফ্যাক্ট চেকাররা

‘নিষেধাজ্ঞা আসছে, প্রধানমন্ত্রী ভীত, Youtube-bg20190203161217সেনাপ্রধান পদত্যাগের ঘোষণা’ কিংবা ‘পুলিশকে ব্যাপক পেটাল বিএনপি জামায়াত’- এমন সব উস্কানিমূলক হেডলাইন দিয়ে সরকারবিরোধী ভুয়া গুজব ছড়ানো হচ্ছে জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইউটিউবে।

ভিডিও লিঙ্ক: নিষেধাজ্ঞা আসছে, প্রধানমন্ত্রী ভীত, সেনাপ্রধান পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন  

প্রধানমন্ত্রীর পালানোর গোপন পরিকল্পনা ফাঁস, নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা শুরু”  

বাংলাদেশের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক গুজব নতুন কিছু নয়। তবে গত ৭ জানুয়ারি হয়ে যাওয়া দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এর মাত্রা আরও বেড়েছে। বিশেষ করে ইউটিউবে।

এই ভিডিওগুলোর প্রধান টার্গেট নবগঠিত আওয়ামী লীগ সরকার এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব ভুয়া খবরগুলোতে বিএনপি-জামাতের মতো দলগুলোর সরাসরি সম্পৃক্ততা না থাকলেও ভিডিওগুলোর বিষয়বস্তু, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্যগুলো দেখে বোঝা যায় এগুলোর উৎস আসলে কোথায়।

ভিডিও লিঙ্ক:  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ 

বিশ্লেষকরা বলছেন, ভিডিওগুলো সবগুলোই সরকার ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বেকায়দায় ফেলতে তৈরি করা হয়েছে। ভিডিওগুলো বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, সরকারবিরোধী সহিংসতা, সেনা অভ্যুত্থানের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো কোনো রকম তথ্য উপাত্ত ছাড়াই চটকদার ছবি দিয়ে উপস্থাপন করা হয়। আর এসব দেখে সহজে বিভ্রান্ত হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

ভিডিও লিঙ্ক: ভিসা নিষেধাজ্ঞার চিঠি পিটার হাসের হাতে: ক্ষুব্ধ ওবায়দুল কাদের
ভিডিও লিঙ্ক: পাপ বাপকেও ছাড়ে না: ক্ষমতার দাপট শেষ 

গুজবের জন্য প্রস্তুত করা এসব ভিডিওতে বলা হচ্ছে, শিগগিরই নবগঠিত সরকার ভিসা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়তে যাচ্ছে। বেশিরভাগ ভিডিওর থাম্বনেইল ব্যবহার করা হচ্ছে বিতর্কিত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের ছবি।

[আওয়ামী লীগবিরোধী গুজবের কেন্দ্র ইউটিউব]

অবশেষে শেখ হাসিনাকে চিঠি দিল বাইডেন, বড় দুঃসংবাদ পেল আওয়ামী লীগ

 নিষেধাজ্ঞা নিয়ে পিটার হাস এ কি বললেন 

কিছু ভিডিওতে বিএনপি-জামায়াত বাংলাদেশের রাজপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। একইসঙ্গে সরকার পতন ও সেনা অভ্যুত্থানের মতো বিষয়গুলোও কোনো রকম তথ্য উপাত্ত না দিয়েই দেদারসে বলে দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া খালেদা জিয়ার মৃত্যু ও দেশব্যাপী তাণ্ডব চালানোর দায়ে কারাগারে থাকা বিএনপির নেতাদের মুক্তির গুজবতো আছেই।

ভিডিও লিংক: পুলিশকে ব্যাপক পেটাল বিএনপি জামায়াত

যারা বাংলাদেশের রাজনীতিকে ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করেন তাদের কাছে এই ভিডিওগুলোর উদ্দেশ্য পরিষ্কার । বিশ্লেষকদের মতে, প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর সরকারকে রাজপথের আন্দোলনে না দমাতে পেরে বিএনপি-জামাত কর্মীরা হতাশ। তাদের মনোবল বাড়াতে মিথ্যা ও অপতৎপরতায় ভরা এই ভিডিওগুলোর তৈরি করা হচ্ছে।

মজার ব্যাপার হলো, স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকাররা এসব ভিডিও নিয়ে কখনোই আপত্তি তোলেন না। এখনও কোনো স্বনামধন্য ফ্যাক্ট-চেকার এবং/অথবা ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা ইউটিউবে এইসব বিভ্রান্তিকর ভিডিওগুলির বিষয় নিয়ে কোনো কাজ করেনি। এরাই আবার বিভিন্ন সময় বিদেশি গণমাধ্যমেরও ভুল ধরে।

আরও পড়ুনঃ