বাইডেন

বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনে ভুয়া প্রেস পরিচয়পত্র ব্যবহার, বিএনপির সুরে কথা বলা এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়া – তাঁর কাজকর্ম বাইডেনের ভুয়া উপদেষ্টার মতোই। বলা হচ্ছিল, বিএনপির নতুন নাটক জুলকারনাইন সায়েরের কথা।

বেশ কয়েকজন সাংবাদিক এবং শিক্ষাবীদ সত্য ঘটনাকে ধামাচাপা দিয়ে মিথ্যা রাজনৈতিক গল্প প্রচার করার চেষ্টা বিরোধীদের কর্মকাণ্ডের একটি বিরক্তিকর প্যাটার্ন বলে আখ্যায়িত করেছেন। তারা একটি সূত্রের ওপর নির্ভর না করে ক্রস চেক ও বিভিন্ন সূত্র থেকে ওই সব রাজনৈতিক তথ্য যাচার করার প্রতি জোর দিয়েছেন।

জুলকারনাইন সায়ের মূলত একজন ব্যবসায়ী। এখন তিনি বিএনপির অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট যিনি সংবাদপত্রের ওপর পদ্ধতিগতভাবে আক্রমণ চালায়। তিনি বিএনপি-জামায়াত জোটের বিভিন্ন অপরাধের প্রতিবেদন বন্ধ করতে এবং বিদেশী সমর্থন আদায়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করেন।

আরো পড়ুন : তথ্যচিত্রে স্বজনের তথ্যঃ শৈশব থেকেই বিপথগামী সামি

বিরোধীদলীয় নেতা ড. কামাল হোসেনের জামাতার নেতৃত্বে এজেন্ডা বাস্তবায়নে পরিচালিত পোর্টাল নেত্র নিউজে কাজ করে নিজেকে প্রায়ই একজন সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেন সায়ের। তিনি একজন বিদেশী সাংবাদিককে একটি ফেসবুক পোস্টে বাংলাদেশের দিকে চোখ না রাখতে হুমকি দিয়েছেন।

সেই ফেসবুক পোস্টে ওই সাংবাদিককে সায়ের বলেন, আপনার হাত ও চোখ বাংলাদেশ থেকে দূরে রাখুন।

জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই শব্দটিকে শুধু অপমানজনকই নয়, বরং একটি হুমকি বলে মনে করেছেন, যা স্পষ্টতই যেকোনো পেশাদার এবং দায়িত্বশীল সাংবাদিকের কাজের নীতির পরিপন্থী।

George Sorosসায়ের অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যান্ড করাপশন রিপোর্টিং প্রজেক্টের মতো কিছু প্রজেক্টের সঙ্গে জড়িত। এ সংগঠনটিতে অর্থায়ন করে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী জর্জ সরোস ও বিতর্কিত ব্যক্তিরা। জর্জ সরোসকে এশিয়ার অর্থনৈতিক সংকটের মূল হোতাদের একজন বলে মনে করা হয়ে থাকে। এশিয়ার অর্থনৈতিক সংকটের সূত্রপাত হয় ১৯৯৭ সালে, থাইল্যান্ডে। তখন দেশটির মুদ্রা বাথের পতন হয়। পরে অন্য দেশগুলোতেও এ অর্থনৈতিক সংকট ছড়িয়ে পড়ে।

কোন রকম প্রমাণ উপস্থাপন ছাড়াই সায়ের বেশ কয়েকজন জাতীয় সাংবাদিকের নামে অপবাদ দিয়েছেন। এ বিষয়টিকে অ্যাক্টিভিজম হিসেবে দেখেন অধ্যাপক তাবিউর রহমান। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার ছদ্মবেশে এমন তৎপরতা বস্তুনিষ্ঠতার সাথে প্রহসন। আপনি যে কোনো মতামত জানাতে পারেন। কিন্তু সাংবাদিক হিসেবে তা জাহির করতে পারেন না।

ভুয়া নাম সর্বস্ব অনলাইনের সাংবাদিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া অনেকটা ভুয়া পরিচয় দেওয়ারই সমতুল্য। সংশ্লিষ্টদের মতে, তিনি এমনটি রাজনৈতিক অ্যাক্টিভিজমের উদ্দেশেই করছেন।

সায়েরের কর্মকাণ্ড বাইডেনের সেই উপদেষ্টার মতো। বিএনপি ২৮ অক্টোবর তাণ্ডব চালানোর পর দলটির কেন্দ্রিয় অফিসে সংবাদ সম্মেলনে বাইডেনের ভুয়া উপদেষ্টাকে হাজির করা হয়। এছাড়া আরেক ভুয়া সাংবাদিক মুশফিকুল ফজল আনসারির সঙ্গেও তাঁর মিল রয়েছে। তারেকের সহযোগী আনসারিও একটি গণমাধ্যমের সাবেক রাজনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে পরিচয় দেন। অথচ সেই গণমাধ্যম সম্প্রতি জানিয়েছে, আনসারির দাবিটি মিথ্যা।

অধ্যাপক তাবিউর রহমান বলেন, বিরোধীদের কথা বলতে একটি প্রতারক দলকে কাজে লাগানো হচ্ছে। তারা তাদের পরিচয় গোপন করে এবং স্বাধীন বিশ্লেষক হিসাবে তাদের মতামত দিয়ে পাঠকদের প্রতারিত করতে আগ্রহী যা খুবই উদ্বেগজনক।

আরো পড়ুন : বিদেশে বসে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত স্বঘোষিত নাস্তিক তাসনিম খলিল

298690107_10166447839145319_244160759441918802_nনেত্র নিউজ পোর্টালের প্রধান হলেন তাসনিম খলিল। তিনি নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন। ২০০৭ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের ডেইলি স্টার পত্রিকায় চাকরিতে ছিলেন তিনি। কিন্তু বিভিন্ন উদ্দেশ্য ও পক্ষপাতমূলক সংবাদের কারণে ডেইলি স্টার থেকে তাকে পদচ্যুত করা হয়। এর আগে ১৫০ জনের বেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, নেত্র পোর্টালটি সরকার বিরোধী গল্প প্রচারে অগ্রগামী ভূমিকা রাখছে, যা অগ্নিসংযোগের মতো সংগঠিত অপরাধকে এবং জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের অপরাধকে দুর্বল করতে চায়।

[বাইডেনের ভুয়া উপদেষ্টার মতোই ভূমিকা রাখছেন জুলকারনাইন সায়ের]

যুগান্তরের তথ্য অনুযায়ী, সায়েরকে ২০০৬ সালে আর্থিক অসঙ্গতিতে জড়িত থাকার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছিল। এছাড়া ১৭ বছর বয়সে সামি একজন সেনা অফিসারের ট্রাউজার চুরি করার জন্য হাতেনাতে ধরা পড়েছিল। ২০০০ সালে অবৈধ বন্যপ্রাণী ব্যবসার সাথেও তাঁর সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়।

আরো পড়ুন :