দুর্ভিক্ষের

বাংলাদেশের অর্থনীতি যখন দুর্বার এগিয়ে যাচ্ছে, তখনই সামাজিক মাধ্যমে দুর্ভিক্ষের গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াত চক্র। মূলত নিজেদের আমলের দুর্বলতা ঢাকতে এবং সরকারকে বিব্রত করতেই তারা এই জঘন্য কাজটি করে জনমনে বিভ্রান্তি ঢুকানোর অপচেষ্টা করেছে। কিন্তু সে অপচেষ্টা পুরোটাই বৃথা গেছে।

বিএনপির এই দুর্ভিক্ষের গুজবের মধ্যে আসুন জেনে নিই দেশের খাদ্য মজুদের বাস্তব চিত্র। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, গত বছরের জুলাই পর্যন্ত সরকারি গুদামে চাল ও গমের মজুদ ছিল ১৯ লাখ ৫৩ হাজার মেট্রিক টন। এটি ২০২২ সালের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চ। ২০২২ এর জানুয়ারিতে বাংলাদেশের সরকারি খাদ্য মজুদ ছিল ১৯ লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিক টন, যা সর্বোচ্চ রেকর্ড।

খাদ্য মন্ত্রণালয় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩০ লাখ ৮ হাজার টন খাদ্যশস্য বিতরণ করেছে। এটি আগের বছরেও প্রায় একই পরিমাণ ছিল। চলতি অর্থবছরের ১৩ জুলাই পর্যন্ত মোট খাদ্যশস্য বিতরণ হয়েছে ৩৩ হাজার ১০৫ মেট্রিক টন। গত বছরের একই সময়ে বিতরণ করা হয়েছিল ১ লাখ ১২ হাজার টন।

[বিএনপির দুর্ভিক্ষের গুজব ও দেশে খাদ্য মজুদের বাস্তব চিত্র]

শুধু তাই নয়, দেশে ফসলের মাঠ থেকে রান্নাঘর পর্যন্ত পৌঁছাতে প্রতিবছর ৫০ লাখ মেট্রিক টনের বেশি খাদ্য অপচয় হয়। আর বাসা-বাড়িতে খাবার নষ্টের বার্ষিক পরিমাণ ১ দশমিক শূন্য ৭ কোটি মেট্রিক টন। যার সবটাই হয় পরিপূর্ণ সংরক্ষণের অভাবে। আর তাই ফসলের উৎপাদন, পরবর্তী ক্ষতি বা পোস্ট-হার্ভেস্ট লস কমাতে উদ্যোগী হয়েছে সরকার।

খাদ্যের অপচয় কমাতে বাংলাদেশ সরকারও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এসব প্রকল্পের মাধ্যমে এসডিজি ২০৩০ অর্জন সহজতর হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব প্রকল্পের সমন্বিত প্রভাব খাদ্য সংরক্ষণে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে। আর তাতে করে ভেস্তে যাবে বিএনপির দুর্ভিক্ষের স্বপ্ন।

আরও পড়ুনঃ