ভারত

বিএনপির জন্মলগ্ন থেকেই ভারতবিরোধীতা চলছে। যেকোনো ইস্যুতে ভারতকে জড়িয়ে দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করা তাদের রাজনৈতিক হাতিয়ার। আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে যত বয়ানবাজি, তার বড় অংশজুড়েই থাকে ভারত জুজু। অথচ ২০০১ সালের নির্বাচনের পূর্বে তারেক রহমানসহ বিএনপির বড় নেতাদের ভারতে গিয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়ে আসা, ভারতের অন্যতম বড় রাজনীতিবিদ বিজেপি নেতা অমিত সাহার আনুকূল্য পেতে তাকে নিয়ে মিথ্যাচার, ভারত থেকে কোনো নেতা বাংলাদেশ সফরে এলে তার সাথে দেখা করতে দূতাবাসের মাধ্যমে লবিং, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ভারতকেন্দ্রিক ব্যবসা- ইত্যাদি সবই চলমান আছে।

যেকোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রই চায় তাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্রগুলোর সাথে সদ্ভাব বজায় রাখতে, সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক নিয়ে এগিয়ে যেতে। কিন্তু বিএনপির রাজনীতি উল্টোদিকে। তারা মুখে ভারতের বিরোধিতা করে একশ্রেণির মানুষের কাছে সস্তা জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য। কিন্তু তলে তলে ভারতের আনুকূল্য চায় পাকিস্তানপ্রেমি এই দলটি।

বিএনপির নেতারা ২০০১ সালের পূর্বে ভারতকে প্রতিশ্রুতি দিয়ে এলেও তা ভঙ্গ করেছিল পাকিস্তানের পরামর্শে। ভারতকে অস্থিতিশীল করে তুলতে বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য অস্ত্র সরবরাহ করেছিল। নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু হিন্দু নিধন ও দেশত্যাগে বাধ্য করার হাজার হাজার ঘটনার পর ভারতের কাছে বিশ্বাসযোগ্যতা হারায় বিএনপি। তবুও বারবার ভারতের কাছে ধর্না দিয়েছে বিএনপি, ভারতের সাথে বন্ধুত্ব গড়তে ২০১০ সালের পর বিএনপি বহুবার সিনিয়র নেতাদের ভারতে পাঠিয়েছে, বিজেপি নেতাদের সাথে বৈঠক করেছে বহুবার। শেষপর্যন্ত বিদেশবিষয়ক কমিটিও গঠন করা হয়েছে আমির খসরুকে প্রধান করে।

[মুখে দিল্লির লাড্ডু নিয়েই ভারতের বিরুদ্ধে বিএনপির বিষোদগার!]

সর্বশেষ বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ গত ১৪ই ডিসেম্বর থেকে ভারতের নয়াদিল্লিতে অবস্থান করছেন। সেখানে বর্তমান সরকারবিরোধী কয়েকটি পক্ষের সাথে বৈঠক করার কথাও রয়েছে তার। বাংলাদেশে নির্বাচন বন্ধে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে ভারতের হস্তক্ষেপ কামনা করছে বিএনপি।

আবার বিএনপির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক মিত্র এবং অঘোষিত উপদেষ্টা খ্যাত মার্কিন রাষ্ট্রদূত পিটার হাস গতকাল গেলেন নয়াদিল্লিতে। ভারতীয় কূটনীতিকদের সাথে তার শলা-পরামর্শের গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। এদিকে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী অজ্ঞাতস্থান থেকে বসে ভারতবিরোধী বক্তব্যের মাধ্যমে দলের কর্মীদের উজ্জীবিত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তার দাবি, বাংলাদেশের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে।

[মুখে দিল্লির লাড্ডু নিয়েই ভারতের বিরুদ্ধে বিএনপির বিষোদগার!]

একইসাথে ফেসবুক-ইউটিউবে বিএনপি-জামায়াতের গুজবসেল প্রযোজিত ভিডিওগুলোতে দাবি করা হচ্ছে দেশে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর এজেন্টরা বাংলাদেশে নির্বাচনে গোপনে কাজ করছে। তারেক জিয়ার আস্থাভাজন বিশ্ববাটপার জুলকারনাইন সামির দাবি, র নাকি নিজেদের পছন্দসই ৪০ জনকে এমপি বানানোর জন্য তালিকা দিয়েছে আওয়ামী লীগকে। কোনো কোনো ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে নির্বাচন কমিশনের সাথে কাজ করছে র… ইত্যাদি হাস্যকর গুজব ছড়াচ্ছে ভারতবিদ্বেষ পুঁজি করে। মূলত বিএনপি-জামায়াতের অশিক্ষিত কর্মীদেরকে এসব বক্তব্যের মাধ্যমেই উজ্জীবিত করা হয়।

তবে রিজভী যতই ভারতবিদ্বেষী কথা বলুক না কেন, বিএনপি নেতাদের দিল্লিতে বসে লাড্ডু খাওয়ার ঘটনা দিচ্ছে ভিন্ন ইঙ্গিত। জনগণ সবই বোঝে, তলে তলে টেম্পু চালায় কারা?

আরও পড়ুনঃ