বিডিআর

পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে হত্যা করেছিল আমাদের বুদ্ধিজীবীদের। এর ৩৮ বছর পর স্বাধীনতার সপক্ষের শক্তি- আওয়ামী লীগ যখন নিরঙ্কুশ ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠন করে তখন ঘটানো হয় পিলখানা হত্যাকাণ্ড। পরাজিত স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ ঘটায় আমাদের ৫৭ জন দেশপ্রেমিক মেধাবী সেনাকর্মকর্তাসহ ৭৪ জন বিডিআর সদস্যকে হত্যার মাধ্যমে। বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড নিয়ে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর রাজাকারদের দায়মুক্তি দিতে যেভাবে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল, ঠিক একইভাবে পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়েও ষড়যন্ত্রকারীরা অপপ্রচার চালিয়ে আসছে। আমরা খুব দ্রুত অতীত ভুলে যাই। তাই বাংলাদেশের অস্তিত্ব যারা সহজে স্বীকার করতে চায় না, স্বাধীন বাংলাদেশে ক্যু-এর নামে যারা হাজার হাজার মুক্তিযোদ্ধা ও সেনাসদস্য হত্যা করেছে, যারা রাজাকারদের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় বসিয়েছে, নতুন প্রজন্মের কাছে সেই অপশক্তির মুখোশ উন্মোচন করা প্রয়োজন।

♦ উইকিলিকস যা বলছে

বিশ্বের অন্যান্য দুষ্প্রাপ্য নথিপত্রের মত উইকিলিকস ফাঁস করেছিল বিডিআর বিদ্রোহের সেই ঘটনার নথিপত্রও। উইকিলিকসের বাংলাদেশ অংশের পিলখানা সিক্রেট অধ্যায়ে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটানোর উদ্দেশ্যেই এই ঘটনা ঘটানো হয়। নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের মাত্র ২৫ দিনের মাথায় অত্যন্ত নাজুক পরিস্থিতিতে এমন ঘটনা ঘটানো হয়েছে সুপরিকল্পিতভাবে। বিডিআর সদস্যদের দাবি-দাওয়ার আড়ালে ক্যু সৃষ্টির লক্ষ্যে ৬০ কোটি রুপি বরাদ্দ করেছিল পাকিস্থান। এরমধ্যে পিলখানায় ১৫-১৭ কোটি রুপি বিলি করা হয়েছিল। প্রতিটি কর্মকর্তাকে হত্যার জন্য ৪ লক্ষ রুপি করে বরাদ্দ করা হয়েছিল। ১৯ ও ২১শে ফেব্রুয়ারি পাকিস্থানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই কর্তৃক বাছাইকৃত ১৫ জন শুটারকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানো হয় মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে। তারেক রহমানের সাথে আইএসআই’র আদান-প্রদানকৃত ২ শতাধিক ই-মেইলের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এসব তথ্য তুলে ধরে উইকিলিকস।

♦ অপরাধ আড়াল করতে অপপ্রচার

বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে প্রচলিত অপপ্রচার হচ্ছে আওয়ামী লীগের ইন্ধনে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র’ এই ঘটনার জন্য দায়ী। এর মাধ্যমে ভারত ২০০১ সালে রৌমারি সীমান্তে বিডিআর-বিএসএফ সংঘর্ষে শতাধিক বিএসএফ হত্যার প্রতিশোধ নিয়েছে। বিএনপি-জামায়াত ভারত ও ইসরায়েলকে ইঙ্গিত করে বক্তব্যও দিয়েছে। জামায়াত নেতা ও কুখ্যাত রাজাকার আলী আহসান মুজাহিদ বলেছিলেন, ভারতের চক্রান্তে একাধিক পত্রিকা ও এনজিও পিলখানা হত্যাযজ্ঞের জন্য দায়ী।

বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত প্রচার মাধ্যমগুলোতে এখনও একই অপপ্রচার চলে। এসব অপপ্রচারের জবাবে একটি উদাহরণই যথেষ্ট। ২০০১ সালে রৌমারির ঘটনার সময় বিডিআর প্রধান ছিলেন জামায়াত ঘরানার ফজলুর রহমান। বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময় তেহরান রেডিওতে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিদ্রোহীদের দাবি যুক্তিসঙ্গত উল্লেখ করে এই ফজলুর রহমানই সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বক্তব্য দিয়েছিলেন। একটি টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে কিছুটা সুর পরিবর্তন করলেও ঘুরেফিরে বিডিআর বিদ্রোহীদের পক্ষেই মতামত প্রকাশ করেন তিনি।

♦ কোথায় ছিলেন খালেদা জিয়া

উইকিলিকসের ফাঁসকৃত নথি থেকে জানা যায়, পিলখানার ঘটনা বড় আকার ধারণ করলে যেন খালেদা জিয়ার জীবন বিপন্ন না হয়, সেজন্য ঘটনার দিন ভোরে খালেদা জিয়াকে তার ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি ছেড়ে দ্রুত সরে পড়ার নির্দেশ দেয় তারেক রহমান। যে খালেদা জিয়া দুপুর ১২টার আগে ঘুম থেকে ওঠেন না, তিনি সেদিন ভোরেই বাড়ি ছেড়ে পাকিস্থানি দূতাবাসে যান এবং পরে তাকে সেখানকার বাঙ্কারে আশ্রয় দেয়া হয়। পরিস্থিতি শান্ত হওয়ার আগে সেখান থেকে তিনি আর বেরোননি।

♦ প্রতিশোধ ও ষড়যন্ত্রের রাজনীতি কারা করে

বিএনপির রাজনীতি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ও হাজার হাজার সেনার রক্ত ঝরিয়ে। তারা এতটাই প্রতিশোধপরায়ণ যে, ১৯৯৬ সালে জনতার মঞ্চে গিয়েছে, শুধুমাত্র এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতেই সরকারী কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করেছে ও মামলা দিয়েছে। অথচ ২০০৮ থেকে ২০১৩ সময়কালে বিএনপি-জামায়াত ঘরানার একজন কর্মকর্তাকেও আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এসে বরখাস্ত করেনি।

♦ সেনাবাহিনীর ওপর ক্ষোভ কেন

আওয়ামী লীগ হত্যা ও প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করলে কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আযমের ছেলে আমান আযমী জীবিত থাকার কথা নয়। ১৫ই আগস্ট ও ৩রা নভেম্বরের হত্যাকাণ্ড থেকে শুরু করে শাহ এএমএস কিবরিয়া বা আহসানউল্লাহ মাস্টার হত্যাকাণ্ড কিংবা ২১শে আগস্টের ভয়াবহ গ্রেনেড হামলাসহ বহু ষড়যন্ত্রে উঠে এসেছে বিএনপি-জামায়াতের নেতাদের নাম।

বিএনপি বাংলাদেশের দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে আজ্ঞাবহ হিসেবে বিবেচনা করে এসেছে বারবার। নৈরাজ্য, অরাজকতা, স্বেচ্ছাচার ও দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত থেকে ২০০৬ সালে তারা চেয়েছিল সেই সেনাবাহিনীকে ব্যবহার করে ক্ষমতা ধরে রাখতে। মইন ইউ আহমেদ, মেজর জেনারেল সাদিক হাসান রুমীসহ অনেক সেনা কর্মকর্তাই জোট সরকারের অপকর্ম তুলে ধরেছিলেন। উপরন্তু সুষ্ঠু নির্বাচনে সেনাবাহিনী বিশেষ ভূমিকা রাখার ফলশ্রুতিতে আওয়ামী লীগ ল্যান্ডমার্ক সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়। তাই ক্ষমতা হারানোর প্রতিশোধ হিসেবে বিএনপি-জামায়াত পাকিস্থানের কুখ্যাত গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইএ’র সহযোগিতায় পিলখানা হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট রচনা করে। তারা চেয়েছিল এর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিতে।

♦ যারা নিহত হয়েছিলেন, তাদের নিহত হওয়ার নেপথ্য কারণ

খালেদা-নিজামী যখন জেএমবি ও জঙ্গিদের অস্তিত্বের কথা অস্বীকার করেছিলেন এবং বাংলা ভাই মিডিয়ার সৃষ্টি বলে মন্তব্য করেছিলেন, শহিদ বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান কর্নেল গুলজার সে সময় মুফতি হান্নান, বাংলা ভাই, শায়খ রহমান, আতাউর রহমান সানিসহ শীর্ষ জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করে তাদের মুখে চপেটাঘাত করেছিলেন। সে কারণে দুই চোখ উপড়ে, মেরুদন্ড ভেঙে কর্নেল গুলজারের লাশ বিকৃত করা হয়েছিল নৃশংসভাবে।

মেজর জেনারেল শাকিল, কর্নেল গুলজারসহ নিহতদের মধ্যে যারা ২০০৮ সালে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত করতে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন তাদের মধ্যে কর্নেল এলাহি, কর্নেল মোয়াজ্জেম, দেশের প্রথম প্যারা-কমান্ডো কর্নেল এমদাদ, কর্নেল ইনসাত, কর্নেল লতিফুর রহমান, কর্নেল নকিবুর রহমান, কর্নেল ইমাম শাখাওয়াত, লে. কর্নেল রবি রহমান, কর্নেল এহসান, মেজর মাসুম, মেজর রফিক, মেজর খালিদ ও মেজর মাহবুব অন্যতম। উল্লেখ্য, হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের ভাগ্নে ছাড়াও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন তৎকালীন আইজিপি নুর মোহাম্মদের জামাতা ক্যাপ্টেন মাজহারুল হায়দারও। ৫৭ জন চৌকস কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন সেদিন শহিদ হয়েছেন। কর্মকর্তাদের মধ্যে ৩৩ জনই ছিলেন আওয়ামী পরিবারের সন্তান।

♦ কী ঘটেছিল ২৫শে ফেব্রুয়ারির সেদিন

বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনাটি ছিল সুপরিকল্পিত। বিদ্রোহের পরপর দেয়াল টপকে বেরিয়ে আসা মেজর নাজমুল ইত্তেফাকে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বলেন, “মহাপরিচালক মেজর জেনারেল শাকিল আহমেদের সঙ্গে কোনো সৈনিকের বাক-বিতন্ডা হয়নি। দরবার শুরু হওয়ার মাত্র ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে পূর্ব, পশ্চিম ও উত্তর দিক থেকে গোলাগুলি শুরু হয়ে যায়। বিডিআর জোয়ানরা একে অপরকে বলতে থাকে অফিসারদের ধর…। ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে কিছুটা ক্ষোভ ছিল। তবে তা এতটা ভয়ংকর রূপ নেয়ার মত ছিল না।”

২৫শে ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টা ১ মিনিটে বিডিআর ডিজি শাকিল আহমেদ দরবার হলে বক্তব্যে বলেন, “গতকাল বিডিআর সপ্তাহের প্যারেড ভালো হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী প্রশংসা করেছেন। ডাল-ভাত কর্মসূচি নিয়ে ক্ষোভ থাকতে পারে। কোনো দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকলে তার বিস্তারিত পরিসংখ্যান আমি তুলে ধরছি। সরকারের কাছ থেকে আমরা ৪০০ কোটি টাকা পেয়েছি। কীভাবে টাকা খরচ হয়েছে এবং কী আছে তার বিবরণ দিচ্ছি…।”

বলার অপেক্ষা রাখে না, স্বাভাবিক পরিস্থিতিকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অস্থিতিশীল করা হয়েছে দেশকে অরাজকতার দিকে ঢেলে দিতে।

♦ বিডিআর বিদ্রোহের সাথে এর পূর্ববর্তী কয়েকদিনের সংবাদ শিরোনাম বিবেচ্য

• ১১ই ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের মামলার মূল আসামীদের নাম বেরিয়ে আসছে
• ১৩ই ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে ট্রাইব্যুনাল গঠন নিয়ে আলোচনা
• ১৮ই ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে পাকিস্থানের কঠোর অবস্থান
• ১৯শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : জঙ্গি দমনে সরকারের প্যাকেজ কর্মসূচি
• ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : মুজাহিদ-বাবরের বিদেশ যাওয়া হলো না
• ২১শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : যে কোনো মূল্যে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করা হবে : প্রধানমন্ত্রী
• ২২শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : রাজধানীর চারদিকে জঙ্গি আস্তানা
• ২৩শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : গাজীপুরে মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসীদের বাড়িতে জঙ্গিদের আস্তানা
• ২৪শে ফেব্রুয়ারি ২০০৯ : যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের বিপক্ষে আবারও নিজেদের কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে পাকিস্থান

যে বিএনপি সংসদ বয়কট করেছিল, সেই বিএনপি ২৩শে ফেব্রুয়ারি সংসদে যোগদান করেই বেরিয়ে যায়। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হচ্ছে, ২৪ থেকে ২৬শে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিরোধী দলীয়নেত্রী খালেদা জিয়া কোথায় ছিলেন সে সংবাদ অন্তত কোনো পত্রিকা বা মিডিয়ায় পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে জানা যায়, খালেদা জিয়া বিডিআর হত্যাকাণ্ডের আগেই পাকিস্থান দূতাবাসে গিয়ে আশ্রয় নেন।

♦ বিএনপি-জামায়াতের অবস্থান

  • সাদেক খান এবং সাবেক ডিজি ফজলুর রহমানসহ বিএনপি-জামায়াত নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলো প্রথম দিকে বিডিআর-এর পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল।
  • সাকা চৌধুরী শহিদ সেনা কর্মকর্তাদের মৃত্যু প্রসঙ্গে “কিছু প্রাণী মারা গেছে” বলে বিদ্রূপ করে।
  • জামায়াত নেতা রাজাকার আলী আহসান মুজাহিদ কেন এ ঘটনার আগের দিন দেশের বাইরে যেতে চেয়েছিলেন সেটি জানা যায়নি।

♦ অভিযুক্তদের রক্ষায় কেন বিএনপি জামায়াতপন্থী আইনজীবীরা আইনি লড়াই করেছে

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের প্রেক্ষাপট বুঝতে অভিযুক্ত আসামীদের পক্ষে কারা আইনি লড়াই করেছে সেই আইনজীবীদের তালিকাটি বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ থেকে অনুধাবন করা যায় যে নৈরাজ্য সৃষ্টিকারীদের সকল সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছিল বিএনপি-জামায়াত। এই মামলায় আসামীদের পক্ষে আইনি লড়াইয়ে অংশগ্রহণকারী আইনজীবীদের তালিকাঃ

১। ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২। ব্যারিস্টার রফিকুল হক, খালেদা জিয়ার প্রধান আইনজীবী। ৩। অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। ৪। ব্যারিস্টার রফিকুল ইসলাম মিয়া, বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য। ৫। অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান, হাওয়া ভবনের বিশেষ সুপারিশে নিয়োগপ্রাপ্ত জোট সরকারের পিপি। তার তত্ত্বাবধানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে বিএনপি-জামায়াতের নেতারা বিভিন্ন মামলা থেকে অব্যাহতি পায়। ৬। অ্যাডভোকেট ফারুক আহমেদ, সাবেক ছাত্র শিবির নেতা। জামায়াতের নেতা-কর্মীদের আইনি সহায়তা প্রদান কমিটির সদস্য। যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে আইনি লড়াই চালাতে যুক্তরাজ্য থেকে জামায়াতি ব্যারিস্টারদের সমন্বয়কারী ছিলেন। ৭। অ্যাডভোকেট সুলতান, সাবেক শিবির নেতা, ব্যারিস্টার রফিকের সহযোগী। ৮। অ্যাডভোকেট জামাল, ঢাকা বারের লাইব্রেরি সম্পাদক ও বিএনপিপন্থী আইনজীবী। ৯। অ্যাডভোকেট সুলতানা আক্তার রুবি, অ্যাডভোকেট আমিনের সহযোগী, বিএনপিপন্থী। ১০। অ্যাডভোকেট সুফিয়া আক্তার হেলেন, অ্যাডভোকেট আমিনের সহযোগী, বিএনপিপন্থী। ১১। অ্যাডভোকেট রমজান খান, অ্যাডভোকেট আমিনের সহযোগী, বিএনপিপন্থী। ১২। অ্যাডভোকেট জহিরুল আমিন, অ্যাডভোকেট আমিনের সহযোগী, বিএনপিপন্থী। ১৩। অ্যাডভোকেট মো. জয়নুল আবেদীন, বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা। ১৪। অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম, বিএনপিপন্থী। ১৫। অ্যাডভোকেট টি এম আকবর, বিএনপি নেতা ও বার অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সভাপতি। ১৬। অ্যাডভোকেট এসএম শাহজাহান, জামায়াতপন্থী এবং যুদ্ধাপরাধী সাঈদীর অন্যতম কৌঁসুলি। ১৭। অ্যাডভোকেট শামীম সরদার, সুবিধাবাদি। ১৮। অ্যাডভোকেট শেখ রাশেদুল হক, বিএনপিপন্থী। ১৯। অ্যাডভোকেট মাজেদুর রহমান মামুন, বিএনপিপন্থী। ২০। অ্যাডভোকেট এসএম রেফাজ উদ্দিন, বিএনপিপন্থী। ২১। অ্যাডভোকেট আব্দুর রশিদ, বিএনপিপন্থী। ২২। অ্যাডভোকেট খন্দকার জামাল, বিএনপিপন্থী। ২৩। অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, বিএনপিপন্থী। ২৪। অ্যাডভোকেট হুমায়ুন কবীর, বিএনপিপন্থী। ২৫। অ্যাডভোকেট এমদাদুল হক লাল, বিএনপিপন্থী।

♦ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িতদের আসল পরিচয়

  • ডিএডি তৌহিদ, বিদ্রোহী সিপাহী মাঈন, সুবেদার মেজর গোফরান মল্লিকসহ হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদের প্রায় সবাই বিএনপি আমলে নিয়োগপ্রাপ্ত।
  • টাঙ্গাইল থেকে গ্রেপ্তার হওয়া ২২ বিডিআর সদস্য ২১শে আগস্ট গ্রেনেড মামলার আসামী বিএনপির উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টুর সরাসরি সুপারিশে চাকরি পেয়েছিল।
  • বিডিআর হত্যাকাণ্ডের দু’দিন পর খালেদা জিয়া প্রকাশ্যে এসে বলেন, সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করা ভুল ছিল। এ বক্তব্যেই বোঝা যায় তিনি কী চেয়েছিলেন। বিএনপিপন্থী কয়েকটি মিডিয়া বা সাদেক খানরা বিডিআরের পক্ষে অবস্থান নিয়েও পরবর্তিতে মত পরিবর্তন করেন। তাদের দাবি অনুযায়ী বল প্রয়োগ করা হলে প্রাণহানি ঘটত অগণিত মানুষের। অন্যদিকে সিলেট, সাতক্ষীরাসহ কয়েকটি এলাকায় বিদ্রোহ শুরু হয়েছিল। রংপুরে তিনজন সেনাকর্মকর্তাকে জিম্মি করা হয়েছিল।

মোটিভ ছাড়া কোনো অপরাধ সংগঠিত হয় না। এক্ষেত্রেও আমরা মোটিভ বিবেচনা করে বলতে পারি, বিডিআর বিদ্রোহের কারণ ছিল একটি। তা হচ্ছে বিশাল ম্যান্ডেট পাওয়া সরকারের পতন ও দেশকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঢেলে দেয়া। অন্যদিকে সরকার বিদ্রোহে জড়িতদের শাস্তি দিতে পিছপা হয়নি। ঘটনার পরপরই সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে এফবিআই ও স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডের সহযোগিতা চাওয়া হয়। যাদের চক্রান্তে জাতি তার সেরা সন্তানদের হারালো তাদের জন্য অভিশাপ দেয়া ছাড়া আর কোনো ক্ষমতা আমাদের নেই। বিডিআর বিদ্রোহে শেখ হাসিনা যেভাবে জাতিকে অনিশ্চয়তা ও ভয়াবহ দুর্যোগ থেকে রক্ষা করেছেন তা অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। শেখ হাসিনার দৃঢ় পদক্ষেপের কারণেই এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের বিচার সম্পন্ন হয়েছে।

*** তথ্যসূত্রঃ সাপ্তাহিক ২০০০, ইত্তেফাক; নয়াদিগন্ত, জনকণ্ঠ, উইকিলিকস, প্রথম আলো, ডেইলি স্টার, তেহরান রেডিও।

আরও পড়ুনঃ