ডাকসু নেতা নুর

শুরু থেকেই জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট হিসেবেকে চিহ্নিত করা হয়েছিল। কিন্তু তখন তিনি অস্বীকার করেন। যদিও তার কার্যকলাপ এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ছিল বরাবরই জামায়াত-শিবিরের পক্ষে। তাদের জন্য মায়াকান্না তার সব সময়।

নুরুর আশপাশে যাদেরকে দেখা যায়, বেশিরভাগই স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান, জামায়াত শিবিরের ক্যাডার কিংবা স্লিপার সেলের সদস্য। নুরুকে ঘিরে রাখে তারা, নিরাপত্তা দিয়ে যায়, ছায়ার মত অনুসরণ করে তাকে। বিভিন্ন জায়গায় পুলিশের গাড়িতে আগুন, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে নিরাপদে সটকে পড়ে তারা।

বাংলাদেশ যখন বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছে, যখন স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী পালন করছে, উন্নয়নের অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলেছে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের দিকে; ঠিক তখন পাকিস্থানের পরাজিত শক্তির এদেশিয় দোসর বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের এজেন্ডা বাস্তবায়নকারী দেশবিরোধী চক্রের দোসর নুরু দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলতে করছে ষড়যন্ত্র।

ইতিপূর্বে বিভিন্ন সমাবেশে দেখা গেছে তাকে সরাসরি পুলিশের ওপর হামলা করার ডাক দিতে, পুলিশকে পেটানো, পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করতে বলা- এসবই বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির ধরণ। আওয়ামী লীগ সরকার এবং শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে যে কোনো আন্দোলন সমাবেশে তাদের এমন কার্যক্রম দেখা গেছে সবসময়। নুরুল হক নুর

তবে সরকারের কঠোর অবস্থানের কারণে এই নুরুগোষ্ঠী পরাজিত হয়েছে। তাদের ষড়যন্ত্র দেশবাসী বুঝে গেছে। বর্তমানে তারা চাইছে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক, মর্যাদার প্রতীক, দেশরক্ষার প্রতীক দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে উসকে দিতে। সেনাবাহিনীকে উসকানি দিয়ে দেশে একটি অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছে নুরু।

আজ নুরু একটি পোস্ট করেছেন। যাতে তিনি লিখেছেন-

সেনাবাহিনীর গোয়েন্দা সংস্থা চাইলে ২৪ ঘন্টার মধ্যে তাদের সহকর্মী গুম হওয়ার রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব। অথচ বাসা থেকে তুলে নিয়ে গুম করা একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সম্পর্কে ৬ বছরেও তাদের কোন পদক্ষেপ দেখা যায়নি। একজন ব্রিগেডিয়ার জেনারেলের সাথেই যদি এরকম ঘটতে পারে! অন্যদের সাথে, সাধারণ মানুষের সাথে কি ঘটতে পারে সেটা কি তারা একবারও ভাবে?

বিনা ভোটের একটা মাফিয়া সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে আজ নিজেদের সতীর্থদেরকেও গুম করে দিচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গুলি চালাচ্ছে গণতন্ত্রকামী মানুষের উপর, মিথ্যা-ভিত্তহীন মামলা সরকার বিরোধী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের নামে! এই পরিণতি কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে কেউ কি ভাবছেন?

আপাতদৃষ্টিতে পোস্টটি দেখে মনে হতে পারে ক্ষমতাসীন সরকারবিরোধী গোষ্ঠীর আর ৫/১০টা পোস্টের মতই একটি। কিন্তু বিষয়টা অত সরল নয়। পোস্টের সাথের ছবিটি লক্ষ্য করলে অনেকটা পরিস্কার হয়ে আসবে।

[সেনাবাহিনীকে উসকে দিতে গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের পেইড এজেন্ট নুরু]

ছবিটি একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের পুরোধা রাজাকার শিরোমনি কুখ্যাত জামায়াত নেতা গোলাম আযমের কুলাঙ্গার পুত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (বহিস্কৃত) আবদুল্লাহিল আমান আযমীর। নুরু ইচ্ছে করেই তার পোস্টে আযমীর নাম ও পরিচয় উল্লেখ করেননি। কারণ, নাম দেখেই সবাই ‘রাজাকারপুত্র’ ইস্যু তুলে ধরবে। তাতে তার উদ্দেশ্য ব্যাহত হবে।

নতুন প্রজন্মের অনেকেরই মনে প্রশ্ন উঠতে পারে, আবদুল্লাহিল আমান আযমী-কে নিয়ে সমস্যাটা কোথায়? তার সাথে কী ঘটেছে, তিনি কোথায় আছেন, নুরুর সাথে তার সম্পর্ক কী?

আসুন, উত্তরগুলো খুঁজে দেখি

আবদুল্লাহিল আমান আযমীর পিতা গোলাম আযম ছিলেন বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের সরাসরি বিরোধিতাকারী পাকিস্থানি সংগঠন জামায়াতে ইসলামির প্রধান নেতা। তার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল রাজাকার, আলবদর, আল-শামসসহ দালাল সংগঠনগুলো।

আরো পড়ুনঃ তারেককে ‘পলিটিক্যাল টেরোরিস্ট’ আখ্যা এফবিআই’র

গোলাম আযম বলেছিলেন- পাকিস্থান আল্লাহর ঘর। যারা যারা পাকিস্থানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, সংগ্রাম করছে, পাকিস্থানের বিরোধিতা করছে, তারা আল্লাহর দুশমন, ইসলামের দুশমন, তারা ভারতের দালাল, ভারতের উসকানিতে এই মুক্তিযুদ্ধে লিপ্ত হয়েছে। তাই মুক্তিযোদ্ধাদেরকে যেখানেই পাওয়া যাবে, কতল করতে হবে।

জামায়াত এবং শিবিরের (তৎকালীন ছাত্রসংঘ) নেতা-কর্মীদের সমন্বয়ে এই কুখ্যাত সংগঠনগুলো সরাসরি পাকিস্থানি সেনাবাহিনীর এদেশিয় দোসর হিসেবে গণহত্যা, ধর্ষণ, অপহরণ, লুন্ঠন, অগ্নিসংযোগসহ মানবতাবিরোধী প্রতিটি অপকর্মে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করে। যাদের হাতে শহিদ হন ৩০ লক্ষ মানুষ, নিপীড়িত হন ৬-৮ লক্ষ নারী। গৃহহীন এবং পরিবারহীন হন কোটি কোটি মানুষ।

মুক্তিযুদ্ধের শেষভাগে গোলাম আযম টের পান পরাজয় সন্নিকটে, তখন ১৯৭১ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে প্রাণ বাঁচাতে পাকিস্থানে পালিয়ে যান। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও তার অপতৎপরতা থেমে থাকেনি। পাকিস্থানের প্রেসিডেন্ট জুলফিকার আলী ভুট্টোর মদদে এবং গোলাম আযমের নেতৃত্বে গঠিত হয় ‘পূর্ব পাকিস্থান পুনরুদ্ধার কমিটি’। গোলাম আযম

সেই কমিটির পক্ষে জনমত গড়তে এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রাপ্তিতে বাধা দিতে বিভিন্ন দেশে সফর করেন গোলাম আযম। সৌদি সরকারকে ৭ বার অনুরোধ করেন চিঠি দিয়ে, যেন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া না হয়। সৌদি সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার পরদিন ১৬ আগস্ট, ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

একইসাথে বিভিন্ন দেশের মুসলিম সংগঠনগুলো এবং ওআইসিভুক্ত মুসলিম রাষ্ট্রগুলোতে গিয়ে গোলাম আযম সেসব দেশের ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের কাছে কেঁদেকেটে বিলাপ করে বলেন- মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশে ইসলাম বিপন্ন হয়েছে, সেটা রক্ষা করতে সহায়তা করুন। পূর্ব পাকিস্থান পুনরুদ্ধার করতে না পারলে ইসলাম রক্ষা করা যাবে না। ভারতের চক্রান্ত বন্ধ করতে হলে জামায়াতের পাশে দাঁড়ান। এভাবে সেসব দেশ থেকে বিপুল অঙ্কের অর্থ সহায়তা সংগ্রহ করেন গোলাম আযম।

মুক্তিযুদ্ধের পরবর্র্তী সময়ে যখন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়, তখন গোলাম আযমসহ জামায়াত, রাজাকার, আলবদর, আল-শামসের সদস্যরাসহ একাত্তরে মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তাদের অপরাধের বিচার কার্যক্রম শুরু করা হয়। গোলাম আযমের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়।

গোলাম আযম বহু চেষ্টা করেন বাংলাদেশে আসার, কিন্তু সুযোগ পাননি। ৭৫ এর নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পরবর্তী পর্যায়ে জিয়াউর রহমান ক্ষমতা দখল করার পর গোলাম আযমের সামনে চলে আসে অবারিত সুযোগ। পাকিস্থানি পাসপোর্ট নিয়ে বাংলাদেশে আসেন তিনি। জিয়াউর রহমানের বদান্যতায় রাজনীতিরও সুযোগ মেলে জামায়াতের।

জামায়াতের আমির নির্বাচিত হন গোলাম আযম। জিয়ার কল্যাণে জেল থেকে ছাড়া পায় হাজার হাজার যুদ্ধাপরাধী, রাজাকার ও জামায়াতের নেতা-কর্মী। সাথে সাথে শুরু হয় রাজাকারদের পুনর্বাসন প্রক্রিয়া। তারা ধীরে ধীরে অবস্থান তৈরি করে রাষ্ট্রের সকল পর্যায়ে, ক্ষমতার বলয়ে এমনকি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতীক সামরিক বাহিনীতেও।

[সেনাবাহিনীকে উসকে দিতে গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের পেইড এজেন্ট নুরু]

এক সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা গড়ে তোলে প্যারালাল বাহিনী। গড়ে ওঠে তাদের নিজস্ব সাম্রাজ্য। শিল্প কারখানা আর একইসাথে চলতে থাকে নৃশংস রাজনৈতিক ধারা। সরকারের ভেতরেও গড়ে তোলে তারা আলাদা একটি বলয়। যাদের লক্ষ্য একটাই, এজেন্ডা একটাই। রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে দেশকে পাকিস্থান-২ হিসেবে গড়ে তোলা।

সেই ঘৃণ্য চক্রান্তের অংশ হিসেবে জিয়াউর রহমানের বদান্যতায় সেনাবাহিনীতে চাকরির সুযোগ পান কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আজমের কুলাঙ্গার পুত্র আবদুল্লাহিল আমান আযমী। ক্রমে তিনি সেনাবাহিনীতে নিজস্ব দর্শনের লোকজনের সমাগম করেন। আর ধাপে ধাপে উঠে আসেন সেনাবাহিনীর অনেক উঁচু পর্যায়ে। এত দ্রুত পদোন্নতি প্রাপ্তিতে বিএনপি সরকারের অসমান্যা অবদান ছিল।

আযমী যত দ্রুত ওপরের দিকে উঠতে থাকেন, ততই পুরো সেনাবাহিনীকে পাকিস্থানি এজেন্ডা বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যেতে থাকেন। নিজস্ব ভাবধারা, পাকিস্থানপন্থী মানসিকতার লোকজনে ভরে ফেলেন সেনাবাহিনী। জ্যেষ্ঠতা ভঙ্গ করে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদায়ন করা হয় আযমীকে, খালেদা জিয়া সরকারের নির্দেশেই।

বিশ্বের কোনো দেশেই দেশবিরোধী পরিবার, রাষ্ট্রদ্রোহিতায় নিযুক্ত পরিবারের সদস্যদের সামরিক বাহিনীতে নিয়োগ, সরকারি চাকরির সুযোগ, রাজনীতি করা এমনকি ভোটাধিকার প্রয়োগের কোনো সুযোগ নাই। কিন্তু বাংলাদেশে তারা বুক ফুলিয়ে সবই অর্জন করেছে। এমনকি জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে চড়ার সুযোগটাও। এই লজ্জা সমগ্র জাতির।

আরো পড়ুনঃ দেশকে অস্থিতিশীল করতে গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপি-জামায়াতের পেইড এজেন্ট ক্যাপ্টেন শহিদ

সেই আযমী তার সেনাবাহিনীর চাকরির শুরু থেকেই বাংলাদেশ, মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারকে দেখে এসেছে ঘৃণার চোখে, শত্রু বলে তাদের বিনাশ করতে চেয়ে এসেছে সবসময়। চক্রান্ত, ষড়যন্ত্র তার কখনই থেমে থাকেনি। শেখ হাসিনা দেশে ফিরে আসার পরেও তার ওপর হামলা করেছে যারা, তাদেরকে মদদ দিয়েছেন আযমী।

আওয়ামী লীগ সরকার তথা শেখ হাসিনা তার জাতি দুষমন। কারণ শেখ হাসিনার ইস্পাতদৃঢ় মানসিকতার কারণেই কুখ্যাত রাজাকার গোলাম আযম রাজাকার হিসিবে দেশব্যাপী ঘৃণিত হয়েছে, একটি নিকৃষ্ট ব্র্যান্ডে পরিণত হয়েছিল। রাজাকারের কার্টুন আঁকলেই তাতে গোলাম আযমের অবয়ব দেওয়া হয়। এটা পুত্র হিসেবে আযমীর জন্য নরকযন্ত্রণা তো অবশ্যই।

আযমী সেনাবাহিনীর ক্ষমতা এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাদি ব্যবহার করে শুরু করেন ঘৃণ্য চক্রান্ত। সেনা গোয়েন্দাদের হাতে এ সময় তার বিরুদ্ধে গুরুতর অনেক অভিযোগ আসে। এর প্রেক্ষিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে মঈন ইউ আহমদ সেনাপ্রধান থাকাকালে আযমীকে সেনাবাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।

বরখাস্ত হলেও থেমে যাননি আযমী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাজাকারপুত্রের তকমা আর বরখাস্ত সেনা কর্মকর্তার কলঙ্কের দাগ নিয়ে জীবন-যাপন করছিলেন তিনি। আর রাজাকার তকমা নিয়ে দোষী সাব্যস্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন তার পিতা গোলাম আযম। এসবের প্রতিশোধের আগুন বেড়ে হয়ে যায় কয়েকগুণ।

সেনাবাহিনীতে থাকা তার মুরিদদের ব্যবহার করে দেশে অস্থিতিশীলতার চেষ্টা চালান। পাকিস্থানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই’র মাধ্যমে শেখ হাসিনার ওপর হামলার চক্রান্তও করেন। যদিও শেখ হাসিনা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তৎপরতায় সুযোগ করে উঠতে পারছিলেন না। ফলে তিনি একটি নাটক মঞ্চস্থ করেন।

২০১৬ সালের ২২ আগস্ট আযমী নিরুদ্দেশ হন। তার পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, একদল সাদা পোশাকের পুলিশ তাকে নিজ বাসা থেকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাকে আর দেখা যায়নি। আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শেখ হাসিনা সরকারকে বিতর্কিত করতে এটি ছিল আইএসআই’র ব্রেনচাইল্ড আযমীর নাটক।আযমী

সে সময় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘আমান আযমী নামের কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা হয়নি।’

এরপর সরকারের বিভিন্ন ইন্টেলিজেন্স এজেন্সিগুলোর বরাতে তথ্য পাওয়া যায়, আযমী বর্তমানে পাকিস্থানে অবস্থান করছেন বহাল তবিয়তে। তার সাথে যুক্ত হয় শেখ হাসিনা বিরোধী সবগুলো পক্ষ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক, ইউটিউবকে ব্যবহার করে গুজব আর অপপ্রচারের মাধ্যমে দেশবিরোধী কর্মকাণ্ড চালাতে থাকেন।

রাষ্ট্রদ্রোহিতা ও প্রতারণার মামলা নিয়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পালিয়ে যাওয়া সাংবাদিক কনক সারওয়ার, গুজব পত্রিকার সম্পাদক তাসনিম খলিল, রাজাকারদের লবিস্ট ডেভিড বার্গম্যান, রাজাকারপুত্র ইলিয়াস, আইএসআই কর্মকর্তার স্ত্রী মিনা ফারাহ, তাজ হাশমিসহ সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কৃত, অবাঞ্ছিত, বরখাস্তকৃত কয়েকজন সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গড়ে ওঠে সাইবার ফোর্স।

তারেক রহমানসহ যুদ্ধাপরাধীদের সংগঠনের ফান্ডও যুক্ত হয় তাতে। আর সেই ফান্ডে চলছে গণপরিষদের নামে শিবির এজেন্ট নুরুদের কার্যক্রমও। দেশবিরোধীদের অনেকগুলো প্রচারমাধ্যম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ থাকায় এ দেশে সেসবের প্রচারণার কাজটি করছে নুরু ও তার সঙ্গীরা। বাংলাদেশবিরোধী সাইবার ফোর্সের মার্কেটিং করছে তারা।

তাদের সবার অভিন্ন লক্ষ্য দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে উসকে দিয়ে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করা, ক্যু ঘটানো, শেখ হাসিনাকে হঠিয়ে ক্ষমতা দখল করা, শেখ হাসিনা তথা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা কিংবা দেশছাড়া করা। অতঃপর পাকিস্থানপন্থী একটি সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়ে বিএনপি-জামায়াতের আজন্ম লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা।

উপরের এই বিষয়গুলো প্রতিটি পয়েন্ট একটি অপরটির সাথে সম্পৃক্ত। বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ সক্রিয় সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত সংগঠন ছাত্র শিবিরকে প্রতিহতের ঘোষণা দিলে নুরুর দুই চোখ বেয়ে অশ্রু গড়ায়। ৭৫ হাজার টাকা মাসিক ভাড়ার বিলাসবহুল অফিসে বসে রাজনৈতিক দল চালানোর অর্থায়ন করছে কারা- এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজলেই জানা যাবে, তাদের পেছনে কলকাঠি নাড়ছে কারা এবং কোত্থেকে?

নইলে সেনাবাহিনী থেকে বহিস্কৃত একজন রাজাকারপুত্রের জন্য হঠাৎ নুরুর মায়াকান্নার কারণ কী? হঠাৎ এত প্রেম কেন উথলে উঠবে এক রাজাকারপুত্রের জন্য? অচিরেই দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারী বিএনপি ও জামায়াত-শিবিরের এজেন্ট নুরু গংকে প্রতিহত করতে হবে। দেশের সর্বস্তরের জনগণের এজন্য এগিয়ে আসা জরুরী।

আরো পড়ুনঃ